হাতে খড়ি আর্ট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

হাতে খড়ি আর্ট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাতে খড়ি আর্ট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শহরের কাজীপাড়ার ধোপা বাড়ির মোড়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এই কর্মশালা। শিশু  শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রঙ-তুলিতে ফুটিয়ে তোলে তাদের কল্পনার জগৎ। কারো কাগজে উঠে আসে গ্রামীণ জনজীবন,  কারো ছবিতে উঠে আসে শহরের কোলাহলসহ বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফি।

কর্মশালায় নবম দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্নের আঁকা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের দৃশ্য সবার দৃষ্টি কাড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল  স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই ছাত্রী জলরঙে তুলে ধরেন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পনের ছবিটি। শুধু বর্ণই নয়, এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রাপ্তি সাহা, পঞ্চম দ্বাদশ শ্রেণির মৃদুতা চৌধুরী, ষষ্ঠ দ্বাদশ শ্রেণির সারা এবং অষ্টম শ্রেণির ইমরা জান্নাত সুরাসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী তাদের সৃষ্টিশীল কাজ দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। 

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে থাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল বলেন, এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে যায়। আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।

এদিকে কর্মশালা ঘুরে দেখলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটি জাদুঘর। একাডেমির দেয়াল জুড়ে আঁকা হয়েছে নানা ধরনের থ্রিডি চিত্র।

তরুণ উদ্যোক্তা ও চিত্রশিল্পী মকবুল হোসেন সজীব ২০০৭ সালে এই আর্ট একাডেমী গড়ে তোলেন। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে চিত্রাঙ্কনে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত দুইজন শিক্ষকসহ মোট ৫ জন শিক্ষক এই আর্ট একাডেমীতে শিশুদেরকে আর্ট শেখান। বর্তমানে এখানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের অনেকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আর্ট প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন, পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মকবুল হোসেন সজীব জানান, এই একাডেমি গড়ে তোলেন সৃজনশীল শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। স্বপ্ন একদিন নিজের একটি আর্ট গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছেনা।

তিনি আশা করেন, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন ‘ওয়ার্ল্ড আর্ট ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলতে পারবেন। কর্মশালার শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।