নবীগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে হাওড়ে তলিয়ে গেছে পাকা ফসল

নবীগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে হাওড়ে তলিয়ে গেছে পাকা ফসল

সংগৃহীত

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরো ফসল, দিশেহারা কৃষক। নবীগঞ্জ উপজেলা হাওর অঞ্চলে গত দু’দিনের অব্যাহত ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন বোরো ধানের ফসল। হাওড়ের পাশাপাশি অন্যান্য ছোট ছোট হাওড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

কৃষকেরা জানান, গত দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যা হয়েছে অনেক এলাকায়। এতে হাওড়ের পাশাপাশি উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক পাগল হয়ে গেছেন।  

নবীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলার ৪০০ হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওড় এলাকায় চাষ করা হয়েছে। হাওরে প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি টুকু নন হাওড় এলাকার চাষ করা হয়েছে। 

সরেজমিনে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি হাওড়ে দেখা যায় গত দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত সোমবার রাত থেকে দ্রুত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গুঙ্গিয়াজুড়ি, মকার হাওড়ে প্রায় হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং উপজেলার হাওড় অঞ্চলের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বোরো ধান তলিয়ে গেছে।   

নবীগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ের কৃষক আব্দুল কাহার চৌধুরী বলেন, ধান কাটার সময় হাওড়ের সব ধান তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি। সব স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে।  

উপজেলার মকার হাওড়ের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। আজ সবকিছু ডুবে গেছে। আমার ভাগ্যটাই খারাপ। 

এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এ অঞ্চলে। 

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, নবীগঞ্জে গত ২/৩ দিনের মুষলধারের বৃষ্টির ফলে হাওড়ের প্রায় ৪শ হেক্টর বোরো ধানের পাকা ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।