আবারও সোমালিয়ার জলদস্যুদের ত্রাস শুরু, এক সপ্তাহে তিন জাহাজ ছিনতাই
ছবিঃ সংগৃহীত।
সোমালি উপকূলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে জলদস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকার সুযোগ নিয়ে সোমালি জলদস্যুরা আবারও তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার ইন্ডিয়ান ওশান জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল ১৮ হাজার ব্যারেল তেলসহ 'অনার ২৫' নামের একটি ট্যাঙ্কার ছিনতাইয়ের মাধ্যমে এই দফার তাণ্ডব শুরু হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল 'সোয়ার্ড' নামক একটি সিমেন্টবাহী জাহাজ এবং তার আগের দিন আরও একটি মাছ ধরার নৌকা দস্যুদের কবলে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সোমালিয়ার মোগাদিশু থেকে হাফুন পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা থেকে অন্তত ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূর দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জাহাজ চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে 'সোয়ার্ড' জাহাজটি সুয়েজ খাল থেকে কেনিয়ার মোম্বাসার দিকে যাওয়ার পথে সোমালিয়ার গারাকাদ বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়।
জাহাজটিতে সিরিয়া ও ভারতের মোট ১৭ জন ক্রু রয়েছেন। পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দস্যুরা ইতিমধ্যে জাহাজটি একটি প্রত্যন্ত এলাকায় নোঙর করেছে এবং একজন দোভাষীর মাধ্যমে জাহাজের মালিকপক্ষের সাথে দরকষাকষি শুরু করেছে।
গবেষকদের মতে, লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ দমনে আন্তর্জাতিক জোটের ব্যস্ততার সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে দস্যুরা। আগের দশকের তুলনায় বর্তমানের জলদস্যু চক্রগুলো অনেক বেশি আধুনিক এবং সুসংগঠিত। তারা জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির পাশাপাশি অপহৃত বড় নৌকাগুলোকে ‘মাদারশিপ’ হিসেবে ব্যবহার করে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালাচ্ছে।
এমনকি স্থলভাগ থেকে দস্যুদের জন্য মাদক ও রসদ সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছে।