কুমিল্লায় বুড়িচংয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, একজনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন কুমিল্লার নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হান্নান মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেন। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ময়নাল হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ময়নাল হোসেন (৪০) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালে বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা কামিল মাদরাসার পাশে ময়নাল হোসেন তার প্রতিবেশী দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা মীমকে ধর্ষণ ও গলা টিপে হত্যা করে। এরপর শিশুটির লাশ রশি দিয়ে বেঁধে ও পলিথিনে মুড়িয়ে ওই মাদরাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে গুম করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে হাবিবার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত উম্মে হাবিবা মীমের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আসামিদের দেখানো মতে উম্মে হাবিবার মরদেহ মাদরাসার টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন বলেন, আসামি ময়নাল হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা ধর্ষণের পর হত্যা করে মাদরাসার টয়লেটের ট্যাংকে গুম করে রাখে।
নবগঠিত নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৭ জন সাক্ষী ও অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি পক্ষ ও তার আইনজীবিদের উপস্থিতিতে নারী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক আবদুল হান্নান আসামি ময়নাল হোসেনকে ধর্ষণের অভিযোগ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
এই মামলা পুলিশ দুইজনকে মূল আসামি হিসেবে চার্জশিট দাখিল করে। এর মধ্যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছে। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।