বর্ষা শুরুর আগেই মেঘনার ভাঙন, বসতভিটা রক্ষায় মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি
বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাঙনের হাত থেকে বসতভিটা রক্ষার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেন শতাধিক মানুষ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আশা, পূর্ব সুলতানী, পশ্চিম সুলতানী ও জাদুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে কয়েক হাজার পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উলানিয়া মুজাফফর খান ডিগ্রি কলেজ, সুলতানী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীগঞ্জ ও লালগঞ্জ বাজার নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বাজার দুটি বিলীন হলে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।
ভাঙনের মুখে থাকা সফুরা খাতুন বলেন, ‘ঘরডা ভাঙতে আছে। পোলাপান নিয়া কই যামু? আমি বাঁচতে চাই। আমাগোরে বাঁচান।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এরই মধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন— বৃহত্তর উলানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মিল্টন চৌধুরী, মো. হাবিব হাওলাদার, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন পান্না, মাহাতাব উদ্দিন ফরিদ, ব্যবসায়ী জামাল ভূইয়া, তারেক তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল রাঢ়ী ও মাছঘাট ব্যবসায়ী মনির হোসেন তালুকদার।
বক্তারা বলেন, বর্ষার আগেই যেভাবে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে পুরো ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ উলানিয়ার ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।