স্কোপাস প্রকাশনায় শীর্ষে নোবিপ্রবি

স্কোপাস প্রকাশনায় শীর্ষে নোবিপ্রবি

ফাইল ছবি

দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ধারাবাহিক অগ্রগতির নজির গড়ে তুলছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গবেষণার মান ও প্রকাশনার সংখ্যা বাড়িয়ে ২০২৬ সালে স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষণা প্রকাশের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এর আগে ২০২৫ সালেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতায় ছিল নোবিপ্রবি।

স্কোপাস ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, নোবিপ্রবিতে এখন পর্যন্ত মোট গবেষণা প্রকাশনা ২,৮৯৩টি এবং মোট লেখক সংখ্যা ১,৫২৫ জন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকাশনার ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। ২০২০ সালে ১৮৬টি প্রকাশনা থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ৩১৮টি, ২০২২ সালে ৩৫৬টি, ২০২৩ সালে ৪১৯টি এবং ২০২৪ সালে ৪৮৯টি প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫৪টিতে। চলতি ২০২৬ সালেও ইতোমধ্যে ২০০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা বছরের শেষে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণার এই অগ্রগতি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭৩টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৮৯টি প্রকাশনা হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে ৪৯৬টি ও ২০২৬ সালে ১৯৮টি, এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে ৩৮১টি ও ২০২৬ সালে ১৩৮টি প্রকাশনা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে নবীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবির এ অগ্রযাত্রাকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,৮২১টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৮৪টি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,৪৪০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।

গবেষণায় এই ধারাবাহিক উন্নতির ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে নোবিপ্রবি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটি ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া, টিএইচই-এর এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৬-এ নোবিপ্রবি ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা, গবেষণা, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পখাত থেকে আয়ের ভিত্তিতে এই র‍্যাংকিং প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ও স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ফাহদ হুসাইন বলেন, “স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাই র‍্যাংকিংয়ে বিবেচিত হয়। সেক্ষেত্রে প্রকাশনা ও সাইটেশন বৃদ্ধির ফলে গবেষণা সূচকে নোবিপ্রবি এগিয়ে থাকবে। এ বিষয়ে কৌশলগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পাসজুড়ে স্কোপাসভুক্ত জার্নাল ও কোয়ার্টাইল নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে বেড়েছে।”

রিসার্চ সেলের পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীমিত সম্পদের মধ্যেও ভালো গবেষণা হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বড় অর্জন। গবেষণার সক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরো ভালো করার প্রত্যাশা রয়েছে।”

গবেষণায় প্রণোদনা বৃদ্ধি ও সহায়তা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং গবেষণায় স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নতি করে শীর্ষ অবস্থানে যাওয়ার আশা করছি।”

গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে নোবিপ্রবির এই অগ্রযাত্রা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।