জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন তারেক রহমান
ফাইল ছবি।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এমন এক সময়ে জাতিসংঘে অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে, যখন দেশটি এক বিশাল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন পরিচয় ধারণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল একটি প্রথাগত অংশগ্রহণ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আসা প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনের পর এটিই হবে তাঁর প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও কূটনীতিপাড়ায় এখন ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তাঁর ভাষণের মূল প্রতিপাদ্য হবে—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার। তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন কীভাবে বাংলাদেশ একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করার একটি সুযোগ যে, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নতুন এবং আরও কার্যকর কোনো প্রস্তাবনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তিনি বিশ্বনেতাদের ওপর জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম সারিতে থাকায়, তিনি উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল ছাড়ের বিষয়ে জোরালো অবস্থান নেবেন।
সফর চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ব্যস্ত সময়সূচী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাইডলাইনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে এক উচ্চপর্যায়ের ‘বিজনেস সামিট’-এ যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বাংলাদেশের নতুন বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ, ট্যাক্স সুবিধা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরবেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করবেন যে, একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিশাল জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য এবং তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এক নতুন কূটনৈতিক জয়ের সূচনা। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা হাতে যখন তিনি দাঁড়াবেন, তখন তাঁর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন ও সার্বভৌমত্বের কথা।