বায়ার্ন-পিএসজি ম্যাচে পেনাল্টি বিতর্ক, নিয়ম কি বলে?
সংগৃহীত ছবি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে ৬-৫ এগ্রিগেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধে বাভারিয়ানদের পেনাল্টি আবেদন নাকচ করাকে কেন্দ্র করে।
বুধবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টির জোর দাবি তোলে বায়ার্ন। পিএসজির মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগার পরপরই বায়ার্ন খেলোয়াড়রা রেফারি জোয়াও পিনেইরোর কাছে পেনাল্টি চান।
কিন্তু রেফারি সে আবেদন নাকচ করে দেন।
ঘটনাটি ঘটে যখন পিএসজির খেলোয়াড় ভিতিনিয়া বল ক্লিয়ার করেন, আর সেই বলই গিয়ে লাগে নেভেসের হাতে। এর কিছুক্ষণ আগেই নুনো মেন্দেসকেও হাতে বল লাগাতে দেখা যায়, যিনি তখন হলুদ কার্ডে ছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতিতেও বায়ার্নের বিপক্ষে আগের ফাউলের জন্য ফ্রি-কিক দেওয়া হয়।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার দর্শক ও বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের হ্যান্ডবল সংক্রান্ত আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড়ের সতীর্থের পা থেকে বল এসে যদি তার হাতে লাগে, তবে সেটি হ্যান্ডবল হিসেবে গণ্য হবে না—যদি না সেই বল সরাসরি প্রতিপক্ষের জালে ঢুকে যায় বা সঙ্গে সঙ্গে গোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই নিয়মের কারণেই নেভেসের হাতে বল লাগার ঘটনাটি পেনাল্টি হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
এর আগে, ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় পিএসজি। তৃতীয় মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় তারা।
শেষদিকে ইনজুরি টাইমে হ্যারি কেইন গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরালেও শেষ পর্যন্ত ৬–৫ অ্যাগ্রিগেট ব্যবধানে জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠে পিএসজি।
উল্লেখ্য, প্রথম লেগেও বায়ার্ন একটি বিতর্কিত পেনাল্টির শিকার হয়েছিল।
আলফোনসো ডেভিসের শরীর থেকে বল লেগে হাতে যাওয়ার পর ভিএআর-এর সাহায্যে পিএসজিকে পেনাল্টি দেওয়া হয়, যেখান থেকে তারা গোল করে লিড নেয়।
সব মিলিয়ে দুই লেগেই রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বাভারিয়ানদের অসন্তোষ থাকলেও নিয়মের ব্যাখ্যায় সেগুলোকে সঠিক বলেই ধরে নিতে হচ্ছে তাদের।