ভারতের কথা কেউ বিশ্বাস করে না, ওরা সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী- পাকিস্তান
ভারতের কথা কেউ বিশ্বাস করে না, ওরা সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী- পাকিস্তান।। ছবিঃ দ্য ডন।
ভারতের বিরুদ্ধে পুনরায় আক্রমণাত্মক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। এখন আর কেউ তোমাদের কথা শোনে না এবং বিশ্বাসও করে না।
দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সামরিক উত্তেজনার সমাপ্তিকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।
আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আশা পূরণ করেছে এবং বহুমুখী অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে প্রতিহত করেছে। তিনি জানান, আজ তারা অতীতের চেয়ে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময়কাল এবং এই সংঘাতের কৌশলগত ফলাফল নিয়ে বেশি আলোচনা করবেন।
আইএসপিআর প্রধান ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে প্রধান হলো- পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে তুলে ধরার ভারতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া।
তিনি দাবি করেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে পেহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এক বছর পার হলেও পাকিস্তানের তোলা প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর ভারত দিতে পারেনি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “প্রমাণ কোথায়? এখন বিশ্ব আর এসব বিশ্বাস করে না।”
দ্বিতীয় কৌশলগত দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বর্তমানে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি ভারতকে অভিযুক্ত করে বলেন, সেখানে সামরিক নেতৃত্বের ‘রাজনীতিকরণ’ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ‘সামরিকীকরণ’ ঘটেছে। তার মতে, একসময়ের পেশাদার ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন রাজনীতির শিকলে বন্দি এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতারা বর্তমানে ‘যুদ্ধবাজ’ হয়ে উঠেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন যে, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন আড়াল করতে ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তোলে।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং সেখানে জনমিতির পরিবর্তন ঘটানোর অধিকার ভারতের নেই।
আহমেদ শরিফ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। পঞ্চম কৌশলগত দিক হিসেবে তিনি দাবি করেন যে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত চেহারা এবং তাদের তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা বিশ্বের সামনে প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, অক্টোবর মাসে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলার পর পাকিস্তানে হামলার ঘটনা কমে এসেছে। সবশেষে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারত এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের শরণাপন্ন হচ্ছে।