রসুনের যত গুণ

রসুনের যত গুণ

ফাইল ফটো

রান্নাঘরের পরিচিত একটি উপাদান হলেও রসুন শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। তরকারি, ভর্তা, আচার কিংবা মুড়ি মাখানো বিভিন্ন খাবারে নিয়মিত ব্যবহার করা হয় এটি। পুষ্টিগুণ ও ভেষজ বৈশিষ্ট্যের কারণে বহু আগে থেকেই রসুনকে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুনে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।

এর মধ্যে আছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, ফোলেট, সেলেনিয়াম ও সালফারজাত উপাদান। এসব কারণে বর্তমানে রসুনকে অনেকেই ‘সুপারফুড’ হিসেবেও বিবেচনা করেন।

রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামের উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

রসুন যেসব উপকার করে

রসুন রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া রসুনে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকায় বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধেও এটি সহায়ক। হজমশক্তি বাড়ানো, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমানো এবং শরীরের কোষ সুরক্ষায়ও রসুন কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো এবং ইউরিন ইনফেকশন কমাতেও রসুন কিছুটা সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

নারীদের হরমোনজনিত ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মেনোপজের সময় কিছু সমস্যা কমাতেও রসুন উপকারী হতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। পুরুষদের ক্ষেত্রেও এটি প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়? 

রসুন সাধারণত সকালে খালি পেটে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রসুন চিবিয়ে খেলে এর সালফারজাত উপাদানের কার্যকারিতা আরো বাড়ে।

যারা কাঁচা রসুনের ঝাঁজালো স্বাদ সহ্য করতে পারেন না, তারা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া ভর্তা, শাকসবজি বা মুড়ির সঙ্গে কাঁচা রসুন খাওয়া যেতে পারে।

রসুন রান্না বা বেশি ভাজা হলে এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যালিসিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা রসুন কেটে কিছুক্ষণ খোলা জায়গায় রেখে খেলে তা সহজে হজম হয় এবং উপকারও বেশি পাওয়া যায়।

তবে রসুনের আচার খেলে সব ধরনের জীবাণুনাশক গুণ নাও পাওয়া যেতে পারে, যদিও অন্যান্য কিছু উপকারিতা বজায় থাকে।

যাদের সতর্ক থাকতে হবে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া কারো যদি ডায়রিয়া, বমি বা বুকে জ্বালাপোড়ার সমস্যা থাকে, তাহলে রসুন এড়িয়ে চলা উচিত।অনেকের রসুনে অ্যালার্জিও থাকতে পারে। এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রসুন খাওয়া উচিত নয়।