চমেকে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে রেশমি
প্রতিকি ছবি
চট্টগ্রামের বায়োজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত রেশমি আক্তারের(১১) অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এই শিশু।
তাকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও, দুশ্চিন্তায় স্বজনদের ঘুম নেই। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নগরীর রৌফাবাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন রেশমি।
তিনি স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
রেশমির স্বজন ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে রৌফাবাদ বিহারী কলোনিতে পান কিনতে দোকানে যাচ্ছিলেন রেশমি। এ সময় আচমকরা দুর্বৃত্তরা গোলাগুলি শুরু করে। এতে হাসান রাজু (৩২) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
গোলাগুলির সময় একটি গুলি রেশমির গায়ে লাগে। পরে স্বজনরা তাকে চমেকে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউ শয্যা না পেয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অক্ষমতার কারণে একদিন পর স্বজনরা তাকে আবারও চমেকে নিয়ে যান।
এরপর থেকে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসকদের বরাতে রেশমির মেজ ভাই মো. ফয়সাল জানান, একটি গুলি রেশমির চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে আটকে গেছে। এতে মস্তিস্কে গুরত্বর আঘাত লেগেছে এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখনও তার শরীর নিস্তেজ। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।
শিশুটির খালু মনসুর আলম জানান, রেশমির চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তার বাবা রিয়াজ আহমদ প্রতিবন্ধী। তিনি রৌফাবাদ এলাকায় শাকসবজি বিক্রি করে সংসার চালান। তাদের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও মুশকিল হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেকের আইসিইউতে কর্মরত একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, রেশমির মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার মস্তিরের অবস্থা জটিল পর্যায়ে আছে। এই ধরণের পরিস্থিতিতে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। এরপরও তাকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন