দক্ষিণী সিনেমার বিজয় ও তৃষাকে নিয়ে জ্যোতিষীর বিস্ফোরক মন্তব্য

দক্ষিণী সিনেমার বিজয় ও তৃষাকে নিয়ে জ্যোতিষীর বিস্ফোরক মন্তব্য

দক্ষিণী সিনেমার বিজয় ও তৃষাকে নিয়ে জ্যোতিষীর বিস্ফোরক মন্তব্য।। ছবিঃ সংগৃহীত।

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপাতি বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন করে আলোচনায় আসে। বিজয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পর তৃষার উচ্ছ্বাস সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

এবার এ বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জ্যোতিষী বেনু স্বামী। তিনি দাবি করেন, তৃষা কৃষ্ণানের গ্রহগত প্রভাবের সঙ্গে বিজয়ের রাশিফলের গভীর সংযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, “তৃষা যদি বিজয়ের জীবনে না থাকতেন, তাহলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তার সাফল্যের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।”

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বেনু স্বামী। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হলেও বিজয়ের সরকার দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই রাজ্যে ফের নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই জ্যোতিষী।

বিজয় ও তৃষার সম্পর্ক নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বেনু স্বামী জানান, তাদের সম্পর্ক ‘একনাড়ি কম্বিনেশন’-এর অন্তর্ভুক্ত। জ্যোতিষশাস্ত্রে বর-কনের জন্ম নক্ষত্র একই নাড়িভুক্ত হলে তাকে ‘নাড়ি দোষ’ বা ‘একনাড়ি কম্বিনেশন’ বলা হয়।

এ বিষয়ে জ্যোতিষী বেনু স্বামী বলেন, ‘বিজয় ও তৃষার এই যোগ একদিকে যেমন বিশাল সাফল্য এনে দিতে পারে তেমনই অপ্রত্যাশিত সমস্যাও তৈরি করতে পারে।’

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থালাপাতি বিজয়-এর দল তামিলাগা ভেত্রি কোঝাগম ১০৮টি আসনে জয় পাওয়ার পর তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিজয়ের এই রাজনৈতিক সাফল্যের মধ্যেই জ্যোতিষী বেনু স্বামী-এর ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ তার আগের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিল খুঁজছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এসব মন্তব্য শুধুই আলোচনায় থাকার কৌশল।

ব্যক্তিগত জীবনে বিজয় দীর্ঘদিন ধরে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গম-এর সঙ্গে সংসার করছেন। তবে কয়েক দশকের দাম্পত্য জীবনের পর তাদের সম্পর্কে ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরকীয়ার অভিযোগে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতা—এমন খবর সামনে আসার পর থেকেই বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। যদিও বিচ্ছেদের আবেদনে কোনো ব্যক্তির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবু নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ইঙ্গিতটি দক্ষিণী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান-কে ঘিরেই।

বিজয় ও তৃষার নাম নতুন করে আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তাদের অতীত সম্পর্কের গুঞ্জন। ২০০৫ সালে গিলি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হয় এবং এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিজয় ও তার স্ত্রী সংগীতার সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে শোনা যায়। পরে অবশ্য সেই সম্পর্ক আর এগোয়নি এবং পরিবারে মনোযোগ দেন বিজয়।

তবে গুঞ্জনের পরও ২০০৮ সালে কুরুভি সিনেমায় আবারও একসঙ্গে অভিনয় করেন বিজয় ও তৃষা। এরপর দীর্ঘ সময় আর কোনো সিনেমায় এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা যায়নি।