বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ, ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে
ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে, যার বিপরীতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারগুলোতে। একদিনেই তেলের মূল্য ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৬৮ ডলারে, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬১ ডলার, যা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
ইরানের প্রধান আলোচক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তেহরানের দেওয়া শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে হবে, অন্যথায় আলোচনা ব্যর্থ হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মুদ্রাস্ফীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত তিন বছরের মধ্যে এপ্রিলে মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিলেও জীবনযাত্রার মূল খরচ এখনো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক বাজারের চিত্র
যুক্তরাজ্য: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংকটের কারণে ব্রিটেনে বন্ডের সুদের হার ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দরপতন হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: এআই প্রযুক্তির মুনাফার ওপর নতুন করে কর আরোপের প্রস্তাব করায় দেশটির শেয়ার বাজার ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বেইজিং পৌঁছাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে আলোচনা হবে। ট্রাম্পের এই সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন টেসলা প্রধান এলন মাস্ক এবং অ্যাপলের সিইও টিম কুকের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
চীনের ওপর ট্রাম্পের এই সফরের সাফল্য এখন অনেককাংশেই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের ওপর। কারণ ইরান থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীন অন্যতম বড় অংশীদার।
সূত্র: নিউএজ