ইসরায়েলের অপরাধ ঢাকতে মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক কর্তৃক স্থগিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি এই ঘটনাকে মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির এক বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের অপরাধ ঢাকা না পড়া পর্যন্তই কেবল আমেরিকার অভিধানে মানবাধিকারের অস্তিত্ব টিকে থাকে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, এটি মূলত সেই একই দ্বিমুখী নীতি, যা বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য যখনই ইসরায়েলি শাসন বা তার মিত্রদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি ওঠে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। আমেরিকার মানবাধিকার নীতির আসল রূপটি হলো—শত্রুদের জন্য মানবাধিকারের কড়াকড়ি আর মিত্রদের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি।
জাতিসংঘের ইতালীয় কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি প্রশাসন এবং তার সমর্থকদের জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে ঘারিভাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এখন ওয়াশিংটনের হাতে আধিপত্য বিস্তারের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই আইনকে কেবল তখনই বৈধ মনে করে, যখন এটি তাদের মিত্রদের গায়ে কোনো আঁচ লাগতে দেয় না। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ বা সংস্থা যদি ইসরায়েলের অপরাধের খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপরই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন কর্তৃক ইসরায়েলি প্রশাসনকে জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করার এই ভীতির কারণে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনাক্রম্যতা এবং সত্য ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীদের অধিকারকে কোনোভাবেই বলি দেওয়া উচিত নয়। মার্কিন বিচারকের এই সাম্প্রতিক রায়ের পর আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নৈতিকতা নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি