১০১ টাকায় লক্ষ্মীপুরে পুলিশে চাকরি পেলেন ৩২ তরুণ-তরুণী
সংগৃহীত
শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ৩২ তরুণ-তরুণী। এই চাকরি পেতে অনলাইন আবেদন ফি বাবদ জনপ্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১০১ টাকা। জেলা পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জেলায় ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) রাতে জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জেলা পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল প্রকাশের পরপরই উত্তীর্ণ প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশে চাকরি পেয়ে তারা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় গত ১৮ এপ্রিল কনস্টেবল পদে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট ৯১৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে ৬৮২ জন মাঠপর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১৪৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ১৪৫ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখান থেকে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) জন্য ৪৫ জনকে ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৩২ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয় এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয় আরও পাঁচজনকে।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় কৃষক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাত্র ১০১ টাকা খরচে চাকরি পেয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোনো ঘুষ বা তদবির ছাড়াই শতভাগ মেধার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেয়ে তারা জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেককে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশে চাকরি পাওয়া রামগতি উপজেলার কৃষক পরিবারের সন্তান মো. তারেক এবং সদর উপজেলার দালালবাজার এলাকার এক প্রবাসীর মেয়ে সুমনা আক্তারসহ কয়েকজন বলেন, আমরা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। অভাব-অনটনের মধ্যে আমাদের সংসার চলে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম দেখে নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমরা জেলা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে পারব। কোনো ঘুষ ও তদবির ছাড়া চাকরি পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে যারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের মাত্র ১০১ টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে, পুলিশে চাকরি মানেই ঘুষ ও তদবির লাগে। আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে নতুন করে দেশ গড়তে হবে। আশা করি, যারা এখন চাকরি পেয়েছে তারা সততার সঙ্গে দেশের সেবায় কাজ করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইদুর রহমান, ফেনী জেলা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা।