বিশ্বকাপে বিদেশি কোচের আধিপত্য, এগিয়ে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে বিদেশি কোচের আধিপত্য, এগিয়ে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ফুটবলের কথা ভাবলে স্বভাবতই বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর এক বুক গর্বের ছবি চোখে ভেসে ওঠে। এটা জাতীয় পরিচয়েরই এক বহিঃপ্রকাশ, তাই না? দর্শক আর খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টি তেমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে যারা রণকৌশল সাজাবেন— সেই কোচদের ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন; কারণ এবার বিশাল সংখ্যক দেশ সহায়তার জন্য বিদেশিদের দিকে হাত বাড়িয়েছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮ দেশের মধ্যে ৩১টির প্রধান কোচ বিদেশি। মানে বিশ্বকাপের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ভিনদেশে জন্ম নেওয়া কোচদের সঙ্গে করে। 

বড় বড় দেশ নিয়েছে বিদেশি কোচদের
ফুটবলের কিছু স্বীকৃত কোচ এখন তাদের দেশের বাইরের দলগুলোর কোচিংয়ে যুক্ত। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্বে। ইংল্যান্ড  খেলবে জার্মানি থেকে আনা থমাস টুখেলের অধীনে। তারপর আছেন আর্জেন্টাইন মাউরিসিও পচেত্তিনো, যিনি ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোও একই পথে হেঁটেছে। উজবেকিস্তান দ্বারস্থ হয়েছে ইতালিয়ান লিজেন্ড ফ্যাবিও কানাভারোর। কাতার এনেছে স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগিকে।

কোন কোচ তাদের নিজের দেশের ডাগআউটে দাঁড়াবেন?
হিসাব অনুযায়ী ১৭টি দেশ তাদের নিজ দেশের কোচকে পেয়েছে। কোচ ও খেলোয়াড় একই দেশের হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে তাদের বোঝাপড়া হবে মজবুত। তাতে সাফল্যও আসতে পারে উল্লেখযোগ্য হারে। কিন্তু কল্পনা করুন তো, টুখেলের ইংল্যান্ড যদি জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালের পেনাল্টি শুট আউটে দাঁড়ান, কেমন হবে? কিংবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে পচেত্তিনোকে? হতে পারে রবের্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল মুখোমুখি হলো স্পেনের?

বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লিওনেল স্ক্যালোনির সঙ্গেই আছে। শিরোপার আরেক শক্তিশালী দাবিদার ফ্রান্স এখনও আস্থা রেখেছে দিদিয়ের দেশমের ওপর। অন্য দুই স্বদেশী কোচ মরক্কোর ওয়ালিদ রেগ্রাগুই ও স্কটল্যান্ডের স্টিভ ক্লার্ক গ্রুপ পর্বে হাত মেলাবেন আনচেলত্তির সঙ্গে।

সবচেয়ে বেশি কোচ কোন দেশ থেকে?
হিসাবনিকাশ করে দেখা গেছে, এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি কোচ ‘রপ্তানিকারক’ আর্জেন্টিনা। ৪৮ দেশের মধ্যে তাদের ৬ জন কোচ: আর্জেন্টিনায়ে স্ক্যালোনি, যুক্তরাষ্ট্রে পচেত্তিনো, উরুগুয়েতে মার্সেলো বিয়েলসা, প্যারাগুয়েতে গুস্তাভো আলফারো, ইকুয়েডরে সেবাস্তিয়ান বেকোসেস ও কলম্বিয়াতে নেস্তর লরেঞ্জো।

ফ্রান্সের কোচ পাঁচজন। দেশম তো ফ্রান্সেই, এছাড়া বেলজিয়ামে রুডি গার্সিয়া, তিউনিসিয়াতে সাব্রি লামুচি, ডিআর কঙ্গোতে সেবাস্তিয়েন দেসাব্রে ও হাইতিতে সেবাস্তিয়েন মিগনে।

এরপর দ্বিতীয় সর্বাধিক কোচ স্পেন থেকে। স্পেনের আছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে, পর্তুগালে মার্তিনেজ, কাতারে লোপেতেগি, পানামায় ক্রিস্টিয়ানসেন। ইতালি ও জার্মানির কোচ তিন জন। ইতালিয়ান আনচেলত্তি ব্রাজিলে, কানাভারো উজবেকিস্তানে ও ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লা তুরস্কে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া নাগেলসমান জার্মানদের সঙ্গে, ইংল্যান্ডে টুখেল ও অস্ট্রিয়াতে রালফ রাগনিক।

সুতরাং হ্যাঁ, বিশ্বকাপ এখনো পতাকা ও জাতীয় গর্বের বিষয়। কিন্তু ২০২৬ সালে ওই পতাকাগুলোর পেছনের কৌশলগত মস্তিষ্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক।