ঈদযাত্রায় বাড়ছে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ, যানজট এড়াতে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতি
সংগৃহীত ছবি
আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে গাজীপুরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বাড়তে দেখা গেছে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সম্ভাব্য যানজট নিরসনে প্রশাসন নিয়েছে নানামুখী প্রস্তুতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখো কর্মজীবী মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও তীব্র যানজটের শঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে সড়কের ডিভাইডার নির্মাণ, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকান ও পরিবহন কাউন্টার স্থাপন, পশুর হাট এবং বিপরীতমুখী পশুবাহী যানবাহন চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ হতে পারে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া, চন্দ্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় মাঠে থাকছে বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরে শতাধিক পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হাট মহাসড়কের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে। এসব হাটে পশু পরিবহনের জন্য ট্রাক ও পিকআপ চলাচল বাড়ায় যানজটের আশঙ্কাও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে ঈদের সময় উল্টো পথে পশুবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখতে উভয়মুখী লেন খুলে দেওয়া হলেও এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ পশু আসায় সেই সুযোগ সীমিত হতে পারে।
চন্দ্রা এলাকায় কথা হয় আমিনুল ইসলাম নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে ছুটি হয়েছে। এখন যানজট তুলনামূলক কম থাকায় স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমার এখনো অফিস ছুটি হয়নি। ছুটি হলে পরে আমিও বাড়ি যাব।
শ্যামলী পরিবহনের গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের এরিয়া ম্যানেজার প্রবীর চন্দ্র যুগান্তরকে বলেন, স্কুল-কলেজে ছুটি শুরু হওয়ায় অনেক অভিভাবক আগেভাগেই সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। তবে ২৫ ও ২৬ মে শিল্পকারখানাগুলো ছুটি শুরু হলে সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। যদিও বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন তিনি। তার ভাষ্য, উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ সড়কের উন্নয়ন হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, গাজীপুরে প্রায় তিন হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অধিকাংশ কারখানায় ২৫ মে থেকে ছুটি শুরু হবে। একযোগে ছুটি ঘোষণা হলেই মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ২৭ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশমুখ চন্দ্রা ত্রিমোড় ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, সম্ভাব্য যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রা এলাকার ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা সকাল থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মহাসড়কে কোনো ধরনের অবৈধ দোকান বা প্রতিবন্ধকতা রাখতে দেওয়া হবে না।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, অধিকাংশ কারখানায় ২৫ ও ২৬ মে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কারখানায় বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।