ইনভার্টার বনাম নন-ইনভার্টার ফ্রিজ: বাজেট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কোনটি এগিয়ে

ইনভার্টার বনাম নন-ইনভার্টার ফ্রিজ: বাজেট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কোনটি এগিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। বিশেষ করে যেকোনো বড় উৎসব বা কোরবানির ঈদের আগে নতুন ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে যায়। তবে বাজারে এখন মূলত দুই ধরনের প্রযুক্তির ফ্রিজ পাওয়া যায়—ইনভার্টার এবং নন-ইনভার্টার। ফ্রিজ কেনার সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে নিজের প্রয়োজনের জন্য কোন প্রযুক্তিটি বেছে নেওয়া সঠিক হবে। মূলত আপনার বাজেট, ব্যবহারের ধরন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করতে হবে কোন ফ্রিজটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার ফ্রিজের বিস্তারিত সুবিধা, অসুবিধা ও কাজের ধরন নিচে তুলে ধরা হলো।

ইনভার্টার ফ্রিজ এবং এর কার্যকারিতা
ইনভার্টার হলো আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ, যার কম্প্রেসর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন গতিতে বা স্পিডে চলতে পারে। এই ফ্রিজগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ভেতরের তাপমাত্রা যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় চলে আসে, তখন এর কম্প্রেসরটি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় ইনভার্টার ফ্রিজে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল কম আসে। কম্প্রেসরটি বারবার অন-অফ বা পুরোপুরি চালু-বন্ধ হয় না বলে এর ওপর যান্ত্রিক চাপ অনেক কম পড়ে, যার ফলে ইনভার্টার কম্প্রেসরের স্থায়িত্ব বা আয়ু অনেক বছর বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া এই ফ্রিজগুলো চলার সময় একদমই কোনো শব্দ করে না এবং ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় সমান বজায় থাকে বলে খাবার দীর্ঘদিন সতেজ ও তাজা থাকে। তবে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। নন-ইনভার্টার ফ্রিজের তুলনায় ইনভার্টার ফ্রিজ কিনতে শুরুতে একটু বেশি টাকা বা বাজেট লাগে। পাশাপাশি কোনো কারণে এর ভেতরের জটিল সার্কিট বা কম্প্রেসর নষ্ট হলে তা মেরামতের খরচও সাধারণত কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।

নন-ইনভার্টার ফ্রিজ এবং এর ভালো-মন্দ
নন-ইনভার্টার হলো সনাতন বা প্রচলিত প্রযুক্তির ফ্রিজ। এই ফ্রিজের কম্প্রেসরটি কেবল দুটি মোডেই চলতে পারে—হয় এটি পুরোপুরি চালু বা অন থাকে, না হয় পুরোপুরি বন্ধ বা অফ হয়ে যায়। ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছায়, তখন কম্প্রেসরটি একা একাই বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলেই আবার পূর্ণ শক্তিতে বা ফুল লোডে চালু হয়।

নন-ইনভার্টার ফ্রিজের প্রধান সুবিধা হলো এর কম দাম। ইনভার্টার ফ্রিজের তুলনায় বাজারে এগুলো বেশ সাশ্রয়ী ও কম মূল্যে কেনা যায়। এই ফ্রিজের প্রযুক্তি তুলনামূলক সহজ ও চেনা হওয়ায় যেকোনো সাধারণ টেকনিশিয়ান দিয়েই খুব কম খরচে এটি মেরামত করা সম্ভব। কিন্তু এর কিছু বড় অসুবিধাও ক্রেতাদের ভোগায়। যেহেতু কম্প্রেসরটি প্রতিবার একদম বন্ধ অবস্থা থেকে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়, তাই এটি চালু হওয়ার সময় প্রচুর বিদ্যুৎ টানে এবং বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি আসে। কম্প্রেসর বারবার অন-অফ হওয়ার কারণে এটি চলার সময় কিছুটা জোরে শব্দ হতে পারে এবং কম্প্রেসর বন্ধ ও খোলার মাঝের সময়ে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রার কিছুটা তারতম্য বা ওলটপালট ঘটে।

আপনার জন্য কোনটি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
দুই ধরনের ফ্রিজের ভালো-মন্দ বিচার করে আপনি আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন। আপনার যদি তাৎক্ষণিক বাজেট কিছুটা বেশি থাকে, দীর্ঘমেয়াদে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে ফ্রিজের দাম উসুল করতে চান এবং একটি শব্দহীন ও দীর্ঘস্থায়ী ডিভাইস আশা করেন, তবে ইনভার্টার ফ্রিজ কেনাই আপনার জন্য ভালো হবে। বর্তমান বাজারে ইনভার্টার ফ্রিজকেই প্রযুক্তিগত দিক থেকে সবচেয়ে সেরা এবং বুদ্ধিমানের পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে আপনার যদি তাৎক্ষণিক বাজেট একদম সীমিত থাকে এবং ফ্রিজটি খুব বেশি দিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা না থাকে, যেমন কোনো মেস, ব্যাচেলর বাসা কিংবা সাময়িক বসবাসের স্থান, তবে নন-ইনভার্টার ফ্রিজ কেনা যেতে পারে। এটি কিনলে আপনি শুরুতে যেমন কম খরচে পাবেন, তেমনি পরবর্তীতে যেকোনো সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে খুব কম খরচে মেরামতের সুবিধাও পেয়ে যাবেন।