বিদায়ের রাতেও রেকর্ড গড়লেন মোহামেদ সালাহ

বিদায়ের রাতেও রেকর্ড গড়লেন মোহামেদ সালাহ

মোহামেদ সালাহ

অ্যানফিল্ডে দীর্ঘ নয় বছরের ইতি টানলেন মোহামেদ সালাহ। রোববার (২৪ মে) রাতে লিভারপুলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন এই মিশরীয়। ঘরের মাঠে যদিও ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে অলরেডরা। তবে বিদায়ী ম্যাচেও অ্যানফিল্ডে নিজের ছাপ রেখে গেলেন সালাহ। দলের একমাত্র গোলটিতে অবদান ছিল তার, আর তার মধ্য দিয়েই তিনি গড়েছেন অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

বিদায়বেলা কী কখনও সুখের হয়, যে ঘরে দীর্ঘ নয়টি বছর কাটিয়েছেন মোহামেদ সালাহ; সেই ঘরটাকেই এখন ছাড়তে হলো তাকে। লাল রঙের জার্সির তো আর অভাব নেই, তবে বুকের বাঁ পাশে এলএফসি লিখা লোগো সম্বলিত সেই লাল জার্সি পড়ে কী আর কখনও মাঠে নামতে পারবেন সালাহ। সেসব ভেবেই হয়তো কেঁদেছেন তিনি, কাঁদিয়েছেন তার অগণিত ভক্তদেরও। 

অ্যানফিল্ডে শেষবারের মতো লিভারপুলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন মোহাম্মদ সালাহ। বিদায়ী ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা না পেলেও দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট উপহার দেন এই মিশরীয় তারকা। তার অবদানে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করে অলরেডরা, সঙ্গে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জায়গা পাকা করে নেয় দলটি।  

কোচ আর্নে স্লটের কৌশল নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য করায় আলোচনায় থাকলেও বিদায়ী ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা পান মোহামেদ সালাহ। প্রথমার্ধে নেওয়া একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে বিরতির পর ঠিকই নিজের ছাপ রাখেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে বাঁ পায়ের দারুণ এক আউটসাইড পাসে কার্টিস জোন্সকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি, আর তাতেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। 

এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে লিভারপুলের জার্সিতে সালাহর মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩-এ। ফলে ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাদের তালিকায় স্টিভেন জেরার্ডের ৯২ অ্যাসিস্টের রেকর্ডও পেছনে ফেলেন ‘ইজিপশিয়ান কিং’।     

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার মুহূর্তেই অ্যানফিল্ডে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। সতীর্থদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মোহামেদ সালাহ। গ্যালারিজুড়ে তখন সমর্থকদের কণ্ঠে ভেসে আসছিল তার নামধ্বনি। ধীর পায়ে সাইডলাইনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত এক প্রার্থনায় হাঁটু গেড়ে বসেন এই মিশরীয় তারকা। বিদায়ের সেই মুহূর্তে আবেগ আর ভালোবাসায় যেন এক হয়ে যায় পুরো মার্সিসাইড।  

স্কাই স্পোর্টসকে সালাহ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি আমার সারা জীবনের চেয়েও বেশি কেঁদেছি। আমি আসলে তেমন আবেগপ্রবণ মানুষ নই। আমরা আমাদের যৌবন এখানেই কাটিয়েছি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভাগ করে নিয়েছি। আমরা এই ক্লাবটিকে তার সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে দিয়েছি।’ 

ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে অ্যানফিল্ডের আবেগ যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুলে যোগ দেওয়া অ্যান্ডি রবার্টসনও সেদিন শেষবারের মতো মাঠ ছাড়েন। বদলি হিসেবে মিলোস কেরকেজ মাঠে নামার সময় স্টেডিয়ামের সবাই দাঁড়িয়ে করতালিতে বিদায় জানায় এই স্কটিশ ডিফেন্ডারকে। 

শেষ বাঁশি বাজার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট নিশ্চিত করার আনন্দের মাঝেও বিদায়ের আবহ ছাপিয়ে যায় সবকিছু। লিভারপুলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বিদায়ী ফুটবলারদের সম্মানে গার্ড অব অনার দেন। স্টেডিয়ামের পিএ সিস্টেমে একে একে পড়ে শোনানো হয় লাল জার্সিতে তাদের অর্জন ও জেতা শিরোপার গল্প। আর সেই মুহূর্তে গ্যালারি থেকে শুরু করে মাঠ— সবখানেই দেখা যায় আবেগ আর অশ্রুর মিশেল।