ঢাবির জগন্নাথ হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

ঢাবির জগন্নাথ হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে হল প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে।

ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকার। এছাড়া সাগর নামের আরও এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকারকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।”

ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে তিনি পা তুলে বসেছিলেন। হাঁটুর সমস্যার কারণে তিনি এমনভাবে বসেছিলেন বলে দাবি করেন।

তার ভাষ্য, ওই সময় চন্দন দাস ও ঝলক দাস দোকানে এসে তাকে পা নামিয়ে বসতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি একটি পা নিচে নামান। পরে রুমে ফিরে যাওয়ার পর চন্দন, ঝলক, রিপন ও সাগর তার কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেন এবং থাপ্পড় মারেন।

অভয় অভিযোগ করে বলেন, “তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে, যাতে আমাকে আর চায়ের দোকান কিংবা নিচে দেখা না যায়। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা অমানবিক।”

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। চন্দন দাস বলেন, “দোকানে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে আমরা তার রুমে গিয়েছিলাম। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

ঝলক দাসও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা শুধু কথা বলতে গিয়েছিলাম। রুমের বাইরে থেকেই কথা বলে চলে এসেছি।”

এ ঘটনায় জগন্নাথ হল প্রশাসন ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, “ঘটনাটি রাতেই আমাকে জানানো হয়েছে। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং জানান, তদন্ত কমিটিতে প্রক্টর অফিসের একজন প্রতিনিধিও থাকবেন।

এদিকে, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব বর্মণ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে অভিযুক্তদের অভয়ের কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরে হল সংসদের পক্ষ থেকে প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন খান ও সেক্রেটারি কাজী আশিক এক বিবৃতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।