ববি হাজ্জাজের ব্যাখ্যাকে ধৃষ্টতা বললেন ডাকসু জিএস ফরহাদ

ববি হাজ্জাজের ব্যাখ্যাকে ধৃষ্টতা বললেন ডাকসু জিএস ফরহাদ

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টার হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যাকে ধৃষ্টতা আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।

শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ বা ভুল স্বীকার না করে বরং কেন তার বক্তব্য সঠিক ছিল, সেটিরই ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পাঠকদের জন্য জিএস ফরহাদের ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববী হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ বা ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, বরং তাঁর বক্তব্য কোন কোন কারণে সঠিক; তার জাস্টিফিকেশন দিয়ে বিশাল রচনা লিখেছেন। পুরো লেখার সারমর্ম হলো, “তিনি সঠিক বলেছেন, আমরা বরং ভুল বুঝেছি।”

তিনি মোটাদাগে যে কয়েকটি বিষয় বলার চেষ্টা করেছেন, তার মধ্যে মৌলিক হলো:- স্টেট সাবসিডাইজড হওয়া সত্ত্বেও কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি।

ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রকাশিত তালিকায় টপ ১০০-এর ভিতরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৯২১ সাল, তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— এমন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছরই কমপক্ষে ১৫টির বেশি তালিকাভুক্ত থাকে। এমনকি ১৯৭১ সাল, তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত বহু বিশ্ববিদ্যালয়ও নিয়মিত টপ র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকে।

মূল আলাপে আসি, গবেষণা খাতে বাংলাদেশের ন্যূনতম যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ থাকার কথা, ববী হাজ্জাজের দল বিএনপি তাদের বিগত তিন মেয়াদের শাসনামলে— জিয়াউর রহমানের ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত এবং খালেদা জিয়ার ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ ও ১০ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত শাসনামলে— তার ধারেকাছেও বরাদ্দ দেয়নি। বরং প্রায়ই বরাদ্দকৃত অল্প পরিমাণ অর্থটাও ঠিকঠাক খরচ করেনি।

অন্যদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে দলীয় ভোটার নিয়োগ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় সবসময়ই একে অপরকে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছে। এই প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বিএনপি এই টার্মেও ভালোভাবেই জারি রেখেছে। প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় পদধারী নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার কাজ মাত্র কয়েক মাসেই সম্পন্ন করেছে।

ববী হাজ্জাজের দল বিএনপি সফলভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম প্রথা চালু করেছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রথম বছরেই যন্ত্রণা দিয়ে মানসিকভাবে দাস বানানোর প্রকল্পে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে সফল। ক্যাম্পাসগুলোতে আবাসন সংকট দূর করে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি তাদের তিন মেয়াদের শাসনামলে কার্যকর কোনো পরিকল্পনাও নেয়নি। বরং আইওয়াশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে এই সংকটকে সুকৌশলে আরও তীব্র করেছে, যাতে ছাত্রদলের রিক্রুটমেন্ট ফ্যাসিলিটেট হয়। ফলে, গণরুম প্রকল্প চলেছে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘স্টেট সাবসিডাইজড’ আবাসন সংকট ও গবেষণায় বাজেট সংকট জিইয়ে রাখার অন্যতম শক্তিশালী অংশীদার দল বিএনপির প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার মাধ্যমে তাঁর মূর্খতা প্রকাশ করেছেন বলে ধারণা করেছিলাম। কিন্তু তাঁর নতুন জাস্টিফিকেশন দেওয়ার মাধ্যমে তিনি মূলত ধৃষ্টতাই দেখিয়েছেন।

দেখার অপেক্ষায় রইলাম, বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় এই বিষয়ে কী করেন।