সেট পিসের সেরা আর্সেনাল বনাম পিএসজির রক্ষণ
ছবি: সংগৃহীত
কিছুক্ষণ পরেই বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পিএসজি ও আর্সেনাল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে লুইস এনরিকের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে মিকেল আর্তেতার নিখুঁত রক্ষণাত্মক ব্লক ও ডেড-বল কৌশলের এক মহাযুদ্ধ। আর এই মেগা ফাইনালে দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে একটিমাত্র বিশেষ ক্ষেত্র- তা হলো কর্নার।
চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে আর্সেনাল সেট পিস থেকে যেভাবে একের পর এক গোল বের করছিল, মাঝখানে তার ধার কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসের পর থেকে তারা আবারও ডেড-বল সিচুয়েশনে মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে যখন ওপেন প্লে থেকে গোল পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তখন আর্তেতার মূল ভরসা হয়ে ওঠে কর্নার।
পহেলা এপ্রিলের পর থেকে আর্সেনালের সবচেয়ে বিপজ্জনক ডেলিভারিগুলো এসেছে মাঠের ডান প্রান্ত থেকে। বুকায়ো সাকা এবং নোনি মাদুয়েকের নেওয়া ইনসুইঙ্গিং কর্নারগুলো মূলত সিক্স-ইয়ার্ড বক্স ও পেনাল্টি স্পটের মধ্যবর্তী সেন্ট্রাল এরিয়াকে টার্গেট করে তৈরি করা হয়।
আর্সেনাল শুধু সরাসরি বক্সে বল ভাসিয়েই ক্ষান্ত হয় না, নিউক্যাসলের বিপক্ষে যেমন দেখা গিয়েছিল, তারা শর্ট-কর্নার ও বক্সের প্রান্তে সেকেন্ডারি অ্যাকশনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করতে ভীষণ পছন্দ করে।
কাগজে-কলমে লুইস এনরিকের দল ইউরোপের অন্যতম সেরা ভারসাম্যপূর্ণ দল হলেও সাম্প্রতিক ডেটা কিন্তু তাদের রক্ষণভাগের একটি বড় দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। এপ্রিল মাসের পর থেকে পিএসজি সেট পিস এবং কর্নার ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রে বেশ নড়বড়ে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মজার ব্যাপার হলো, পিএসজি গত কয়েক সপ্তাহে কর্নার থেকে যে কটি গোল বা গোলমুখী শট হজম করেছে, তার সিংহভাগই এসেছে তাদের বক্সের সেন্ট্রাল এরিয়া এবং রক্ষণভাগের ডান দিক থেকে। কাকতালীয়ভাবে, এই অঞ্চলটিই হলো আর্সেনালের কর্নার আক্রমণের মূল আক্রমণভাগ বা পছন্দের জোন।
ফাইনালে যখন গোল করার সুযোগ খুব সীমিত থাকে, তখন পিএসজির এই সাম্প্রতিক সেট পিস দুর্বলতা আর্সেনালের জন্য ট্রফি জয়ের সবচেয়ে সহজ রুট বা রাস্তা তৈরি করে দিতে পারে।
তবে ফাইনাল ম্যাচ কখনও কেবল এক তরফা সেট-পিস দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। ম্যাচের ৯০ মিনিটে বল পজেশন ও টেরিটোরি নিয়ন্ত্রণে পিএসজি হয়তো এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিদায়ের পর কোনো নির্দিষ্ট সুপারস্টারের ওপর নির্ভর না করে লুইস এনরিকে যে কমপ্যাক্ট দল গড়েছেন, তা এবার ৪৪টি গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ।
কিন্তু আর্সেনালের কমপ্যাক্ট অর্গানাইজেশন এবং স্পেস কন্ট্রোল করার ক্ষমতা পিএসজির আক্রমণভাগের জন্য ভাঙা অত্যন্ত কঠিন হবে। তবে গানার্সরা যদি অতি-আক্রমণাত্মক প্রেস করতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগের পজিশনাল স্ট্রাকচার হারায়, তবে উসমান ডেম্বেলে বা ব্র্যাডলি বারকোলাদের টেকনিক্যাল কোয়ালিটি আর্সেনালকে শাস্তি দিতে ভুল করবে না।