কানাডার নাগরিক হতে আমেরিকানদের হুড়াহুড়ি

কানাডার নাগরিক হতে আমেরিকানদের হুড়াহুড়ি

ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক যথেষ্ট তিক্ত।তবে, সম্প্রতি দেশটির অভিবাসন সংস্থার তথ্য থেকে দেখা গেছে- অনেক আমেরিকানই চাচ্ছে কানাডার নাগরিক হওয়ার সুযোগ নিতে।

কানাডার অভিবাসন সংস্থার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে দেশটিতে প্রথম দিকে যে বসতি স্থাপনকারীরা ছিলেন, তাদের বংশধররা নাগরিকত্বের দাবি করতে পারবেন। ২০২৩ সালে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে কানাডা নতুন নাগরিকত্ব আইনটি তৈরি করেছে।

এ রায়ে বলা হয়, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কানাডার বাইরে বসবাস করেছেন, তারাও যদি এখন বংশপরিচয় প্রমাণ করতে পারেন; তাহলে নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারবেন। এর ফলে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বংশানুক্রমিক নাগরিকত্বের অনুমোদন চেয়ে আবেদন প্রতি মাসে হাজারের বেশি বেড়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই মোট আবেদনের ৪৮ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে।

অথচ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২৭৫টি আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যখন থেকে নতুন আইনটি কার্যকর হয়।

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, আমেরিকানদের আবেদনের এই উচ্চ হার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে প্রমাণ করে। এছাড়া এটিও ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ফলে অনেক আমেরিকান কানাডাকে বসবাস বা পড়াশোনার জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে দেখে।

বছরের শুরুতে কানাডায় আবেদন করা ৪১ বছর বয়সী উইলিয়াম হানওয়েল বলেছেন, সবচেয়ে বড় বিষয় এটি আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন বিকল্পের সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে সিয়াটলে বাস করা উইলিয়াম হানওয়েলের প্রপিতামহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সাসকাচুয়ানে একজন বসতি স্থাপনকারী ছিলেন এবং তার পিতামহ কানাডায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অধিকাংশ নতুন নাগরিক সম্ভবত বিদেশেই থেকে যাবেন, কিন্তু অনেকেই নিজেদের জন্য বিকল্প পথ খোলা রাখতে চান বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী নিক বার্নিং।

তার মত, কানাডার নাগরিকত্বের প্রতি বর্তমান আগ্রহ অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি কারণে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চায়, কিন্তু পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তারা বেরিয়ে আসার পথ চায়।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। যেখানে জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রশাসনের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।