ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা
ফাইল ছবি
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে, এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সোমবার (১ জুন) প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, লেবাননে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা বার্তা আদান-প্রদান বন্ধ করে দিচ্ছে তেহরানের আলোচক দল। তিন মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, ইরান ও তাদের ‘প্রতিরোধ জোট’ (ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলো)—একটি নতুন কৌশল নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বড় সংঘাতের কেন্দ্র হতে পারে। এই পথটি সুয়েজ খালের সঙ্গে সংযুক্ত।
তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এক জায়গায় হামলা মানেই পুরো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না হলে কোনো আলোচনায় ফিরবে না।