মুনাফার প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ‘জ্বীন’ সেজে হুমকি
প্রতিকি ছবি
অ্যাপে বিনিয়োগ করে মুনাফা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেতে শুরু করলে তিনি টেলিগ্রামে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ। গ্রেফতার আব্দুল হামিদ উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে
নাজরান রউফ জানান, প্রায় তিন মাস আগে সদর উপজেলার কালিয়াকান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম (৩১) নামে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন হামিদ। তিনি মমতাজকে ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেলভিত্তিক অনলাইন অ্যাপে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখান।
হামিদের কথায় বিশ্বাস করে মমতাজ বেগম ওই অ্যাপে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই শতাধিক সদস্য সংগ্রহ করে হামিদের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।
এরপর ‘সিইএফ’ নামের আরও একটি অ্যাপে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন হামিদ।
পুলিশ জানায়, পরবর্তী সময়ে ‘ইকো ভোল্ট’ অ্যাপটি অকার্যকর হয়ে গেলে গ্রাহকদের নতুন করে আরও বেশি লাভের আশ্বাস দেন হামিদ। সেই প্রলোভনে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এভাবে বিভিন্ন ধাপে মোট প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।
একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো বন্ধ হয়ে গেলে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে উল্লাপাড়ার বনবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হামিদকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ট্যাব, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামে একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করতেন। ওই আইডির মাধ্যমে নিজেকে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতেন, যাতে তারা প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ না করেন বা টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি না করেন