পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত
সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এখন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু গতকাল বুধবার তাঁকে বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে ঋতব্রত জানান, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবেই কার্যক্রম চালাবেন। তাঁরা চাইছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পরামর্শক হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি তিনি এ কথাও জানান, এবারের ১৮তম বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক) কোনো ভূমিকা থাকবে না। অর্থাৎ তৃণমূল কার্যত ভেঙে গেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগের পর কার্যত ভেঙে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও তৃণমূল এসব ঘটনার মধ্যেই দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন করে কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাস না যেতেই এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ল টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস।
এবার নির্বাচনে এই রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৮টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসীন হয়।
তৃণমূল পায় ৮০টি আসন। সেই ৮০ আসনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক গতকাল বিদ্রোহ ঘোষণা করে মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ৫৮ বিধায়ক একজোট হয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদনে জানান, এই রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা হবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে দলের চিফ হুইপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আখতারুজ্জামানকে। চার উপনেতার মধ্যে রয়েছেন জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন ও শিউলি সাহা।
কংগ্রেসের সঙ্গে বিদ্রোহ করে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আলাদাভাবে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে রাজ্যের শাসনক্ষমতায় থাকা বাম ফ্রন্টকে হারিয়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হয়।
তৃণমূলের সব কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার ভয়াবহ সংকটে পড়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে দলের মূল কমিটিসহ সহযোগী সংগঠনের সব কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ এর সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।’
দলটির ভেতর প্রকাশ্য বিদ্রোহের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে বুধবারই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক (এমএলএ) দলের অফিশিয়াল সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন।
অথচ দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরেক নতুন বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। সূত্র : টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া