ইউক্রেনকে আবারও আপসের আহ্বান পুতিনের

ইউক্রেনকে আবারও আপসের আহ্বান পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে কিয়েভকে আপসের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী প্রতিদিন যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছ।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বিদেশি গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পুতিন। একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে যুদ্ধের অবসান নিয়ে দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত বছর আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে যে আলোচনা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে রাশিয়া একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে এ জন্য ইউক্রেনকেও আলোচিত আপসের বিষয়গুলো মেনে নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘রাশিয়া অ্যাঙ্করেজে আলোচিত আপসগুলো মেনে নিতে রাজি। ইউক্রেনীয় পক্ষকেও সেগুলো মেনে নিতে হবে। তাহলে সংঘাত দ্রুত স্বাভাবিকভাবে শেষ হতে পারে।’

রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বর্তমানে রাশিয়া লুহানস্ক অঞ্চলের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৮৫ শতাংশের বেশি এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় রাশিয়াকে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

যদিও পশ্চিমা ও ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়েছে এবং মস্কো এখনো তাদের ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে, জেলেনস্কির খোলা চিঠি সম্পর্কে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট বার্তাটির বিষয়ে অবগত আছেন, তবে এখনো এর বিস্তারিত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে ট্রাম্প দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন।

বৈঠকে পুতিন রাশিয়ার ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পুতিন এর আগে দাবি করেছিলেন, এটি প্রতিহত করা সম্ভব নয়।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন পুতিন। ২০৩০ সালে বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই সে বিষয়ে ভাবার সময় আসেনি। তাঁর মতে, রাশিয়ার সামনে থাকা বড় ও জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধানই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।