মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন এমিলিয়া

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন এমিলিয়া

ছবিঃ সংগৃহীত।

বিশের কোঠায় থাকার সময় তিনি দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেন হেমোরেজ) শিকার হয়েছিলেন, যা দীর্ঘদিন তিনি সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।জনপ্রিয় হলিউড সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ‘ডেনেরিস টারগারিয়েন’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক তার জীবনের এক দুঃসহ অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিশের কোঠায় থাকার সময় তিনি দুইবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেন হেমোরেজ) শিকার হয়েছিলেন, যা দীর্ঘদিন তিনি সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত ভ্যারাইটি-র ‘পাওয়ার অব উইমেন’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত হওয়ার পর এক বক্তৃতায় তিনি নিজের এই কঠিন লড়াইয়ের কথা শেয়ার করেন।

৩৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, ২০১১ সালে প্রথমবার এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। ২০১১ সালে যখন প্রথমবার এই রোগ ধরা পড়ে, তখন তিনি ভীষণ লজ্জিত ও হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন এবং চাননি কেউ এটি জানুক। এমিলিয়া বলেন, মস্তিষ্কের এই দুইটি আঘাত আমার কী ক্ষতি করেছিল, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ আমি কখনোই পাইনি।

কারণ আমি হাঁটতে, কথা বলতে, সংলাপ মনে রাখতে পারতাম এবং অসুস্থতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্যামেরার সামনে ফিরে এসেছিলাম। তিনি তার চরম ক্লান্তি, হরমোনের সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় শুটিংয়ের পর জ্ঞান হারানোর মতো গুরুতর উপসর্গগুলোকে কাজের মানসিক চাপ মনে করে অবহেলা করেছিলেন। এমনকি চিকিৎসকেরাও তখন এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ধরতে পারেননি, যার কারণে এমিলিয়া নিজেকেই দোষ দিতেন।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এমিলিয়া তার এই অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনেন।

তিনি বলেন, আমার সত্যটা মেনে নিতে বহু বছর লেগেছে। প্রথম রক্তক্ষরণের পনেরো বছর পর, আমি এখন বুঝতে পারি যে সেই সময়টা আসলেই কতটা কঠিন ছিল। মস্তিষ্কের আঘাত মানুষের ব্যক্তিত্ব, স্মৃতিশক্তি ও আত্মবিশ্বাসকে কতটা নাড়িয়ে দিতে পারে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন। তবে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের স্নায়ুবিজ্ঞানী ডেভিড পুত্রিনোর চিকিৎসায় তিনি এখন তার বিশ বছর বয়সের মতো শক্তি ও ইতিবাচকতা ফিরে পেয়েছেন।

নিজের আরোগ্যের জটিলতার সাথে লড়াই করার পাশাপাশি, এমিলিয়া ক্লার্ক ‘সেমইউ’ নামে একটি মস্তিষ্ক পুনরুদ্ধার দাতব্য সংস্থা চালু করেছেন।

ব্রেন ইনজুরিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে এটি কাজ করে। সমাজে এই রোগে আক্রান্ত অন্য ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতেই তার এই প্রয়াস।