জেলেনস্কির খোলা চিঠিকে ‘অভদ্র ও রূঢ়’ বললেন পুতিন
ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির লেখা খোলা চিঠির জবাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চিঠিকে ‘অভদ্র ও রূঢ়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ থামানোর আগে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বান আর সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের (এসপিআইইএফ) একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুতিনের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাতে রুশ প্রেসিডেন্টকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ইউরোপের যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগে না আসা পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা করাটা ভুল হবে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।
জেলেনস্কি প্রস্তাবিত আলোচনা চলাকালীন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান - যা পুতিন আগেই নাকচ করে দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দুই নেতার সাক্ষাৎ হলে ‘খুব ভালো হবে’ বলে তিনি মনে করেন।
তবে জেলেনস্কির এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন। শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে জেলেনস্কির চিঠিকে ‘অভদ্র ও রূঢ়’ মন্তব্য করে রুশ নেতা বলেন, ‘এই চিঠিতে বেশ কিছু অভদ্র মন্তব্য রয়েছে। এটা কি মুখোমুখি বৈঠকের পরিস্থিতি তৈরির একটি উপায়, নাকি বৈঠকটি আয়োজন না করার একটি উপায়? আমার মনে হয়, দ্বিতীয়টি।’
পুতিন আরও বলেন, তিনি বর্তমানে জেলেনস্কির সাথে দেখা করার কোনো কারণ দেখছেন না। তার কথায়, ‘আপাতত এর কোনো মানে দেখছি না।’ যুদ্ধিবিরতির প্রস্তাবও নাকচ করে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বলেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের বাহিনী পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। তাই যুদ্ধ থামানোর আগে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।
রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, মস্কোর নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে। সরাসরি বৈঠকের আহ্বান প্রত্যাখ্যানের পর জেলেনস্কির অভিযোগ, আবারও যুদ্ধকেই বেছে নিয়েছে রাশিয়া। পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং তার এই অবস্থানে বিশ্বের অনেক মানুষ হতাশ।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই তীব্র হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। আজভ সাগর ও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় উপকূলীয় এলাকায় থাকা পাঁচটি কার্গো জাহাজ ও ট্যাংকারে রাতভর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন।
এসব জাহাজ রাডার বন্ধ রেখে ইউক্রেনের শস্য চুরি, সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে কিয়েভ। হামলায় দুটি জাহাজে থাকা পাঁচ আজারবাইজানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।