তেলাপোকাদের পাশে বলিউডের যেসব তারকারা
ছবিঃ সংগৃহীত।
সোশ্যাল মিডিয়ার একটি সাধারণ মিম বা রসাত্মক ট্রোল কীভাবে লাখ লাখ তরুণের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে রাজপথে নেমে আসতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য নজির দেখাল প্রতিবেশী দেশ ভারত। আজ ৬ জুন নতুন দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অনুমতি নিয়ে এক বিশাল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। স্রেফ গত ১৬ মে ইনস্টাগ্রামের একটি প্যারোডি পেজ হিসেবে জন্ম নেওয়া এই মুভমেন্টটির ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র কয়েক দিনেই ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে! আর এই অদ্ভুত ও ভাইরাল আন্দোলনের পেছনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের নামি চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ থেকে শুরু করে হালের ইন্টারনেট সেনসেশন উরফি জাভেদের মতো তারকারা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। জাল ডিগ্রিসংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেছিলেন—‘আজকাল তেলাপোকার মতো একদল বেকার তরুণ ঘুরছে, যারা কোনো চাকরি না পেয়ে কেউ সাংবাদিক, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, আবার কেউ আরটিআই কর্মী সেজে পুরো সরকারি সিস্টেমকে আক্রমণ করছে। এরা হলো পরজীবী।’
দেশের প্রধান বিচারপতির মুখে দেশের যুবসমাজকে ‘তেলাপোকা’ বা পোকা-মাকড়ের সঙ্গে তুলনা করায় ফুঁসে ওঠে ভারতের জেনজি বা তরুণ প্রজন্ম। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিৎ দীপকে এই অপমানের জবাব দিতেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে খুলে ফেলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। তারা তেলাপোকাকে অবহেলা ও টিকে থাকার এক অপরাজেয় প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়।
শুরুটা স্রেফ মিম দিয়ে হলেও, ভারতের নামি সেলিব্রিটিরা এর গভীরতা বুঝতে পেরে পেজটির সমর্থনে এগিয়ে আসেন। বলিউডের ঠোঁটকাটা ও স্পষ্টভাষী পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ প্রথম তারকা হিসেবে এ পেজকে ফলো ও সাপোর্ট করেন। এরপর একে একে যুক্ত হন কঙ্কনা সেন শর্মা, সোনাক্ষী সিনহা, দিয়া মির্জা এবং ফাতিমা সানা শেখের মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীরা। টেলিভিশন ও রিয়েলিটি শোয়ের দুনিয়া থেকেও উপচে পড়া সমর্থন এসেছে এই ককরোচ পার্টির জন্য। ওমর রিয়াজ, হিমাংশি খুরানা, শাফাক নাজের পাশাপাশি বিতর্কিত ও আলোচিত ফ্যাশন তারকা উরফি জাভেদও এই ভাইরাল ক্যাম্পেইনের সমর্থনে নিজের নাম জড়িয়েছেন, যা পেজটির রিচ রাতারাতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আজকের যন্তর মন্তরের এই সশরীরে প্রতিবাদ সমাবেশটি মূলত দেশের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। সমাবেশে যোগ দিতে বোস্টন থেকে ভারতে উড়ে এসেছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে নামার পর দিল্লি পুলিশ তাকে কড়া নিরাপত্তায় ভেন্যুতে নিয়ে যায়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ বলেছেন— ‘সরকার আমাদের আইডিতে সাইবার হামলা চালিয়ে পোস্ট ডিলিট করতে পারে, কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব ডিলিট করতে পারবে না। তারা আমাদের পোকা-মাকড় ভাবলেও, আমরা প্রমাণ করব যে আমরা জীবিত এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে জানি।’
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় জন্ম নেওয়া একটি স্যাটায়ার বা রসাত্মক রূপক কীভাবে তারকাদের পিঠ চাপড়ানিতে ভারতের বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নিল তা সমাজবিজ্ঞানীদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে।