বড়াইগ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৬
প্রতিকি ছবি
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক ডেকে দফায় দফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিবপুর বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কয়েক দফায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের ওয়াজ প্রামাণিক (৭০)-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত ২৯ মে প্রেমসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবিরের সঙ্গে শিবপুরের কয়েকজন কিশোরের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে শুক্রবার আবির ও তার স্বজনরা শিবপুর গ্রামের সজীবকে মারপিট করে। এ সময় সেখানে থাকা গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফকেও মারধর করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গড়মাটি কলোনি থেকে হানিফের স্বজনেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে যায়। সেখানে গোপালপুর কলোনি ও শিবপুরের লোকজনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন।
রবিবার সকালে গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুরের লোকজন একত্রিত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিবপুর বাজারে অবস্থান নেয়। পরে তারা গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত (৩০)-কে পিটিয়ে আহত করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজনও সশস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইউএনও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিশাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। মঙ্গলবার স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।