লোক দেখানো ভণ্ডামির চেয়ে ডিভোর্স অনেক ভালো- ইমরান খান
ছবিঃ সংগৃহীত।
বলিউডের একসময়ের অসম্ভব জনপ্রিয় ‘চকলেট বয়’ ইমরান খান। ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ কিংবা ‘আই হেট লাভ স্টোরিস’ দিয়ে কোটি তরুণীর ক্রাশ বনে যাওয়া এই অভিনেতা হঠাৎ করেই রুপালি পর্দা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে যখন তিনি আবারও কামব্যাক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নিজের ক্যারিয়ারের পতন, মানসিক অবসাদ এবং ২০১৯ সালে স্ত্রী অবন্তিকা মালিকের সঙ্গে হওয়া ডিভোর্স নিয়ে এমন কিছু কথা বললেন— যা সমাজ ও চেনা সম্পর্কের ছক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে!
আমাদের সমাজে আজও ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদকে এক ধরনের সামাজিক অপরাধ বা ‘ট্যাবু’ হিসেবে দেখা হয়। অনেকেই বাচ্চার ভবিষ্যতের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন একটা মরা, বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক টেনে নিয়ে যান। কিন্তু ইমরান খানের চিন্তাভাবনা একেবারেই আলাদা।
ইটাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত ম্যাচিউরডভাবে জানালেন, ‘অবন্তিকার সঙ্গে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তটা মোটেও সহজ ছিল না, এতে প্রচণ্ড কষ্ট আর জটিলতা ছিল। কিন্তু আমি যখন এর বিকল্পটা ভাবলাম— যে একটা অচল সম্পর্ক জোর করে টিকিয়ে রেখে বাচ্চার সামনে প্রতিদিন ঝগড়া-বিবাদ করা এবং নিজের সন্তানকে একটা অশান্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপহার দেওয়া; তখন আমার মনে হলো সেই লোক দেখানো ভণ্ডামির চেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া অনেক ভালো। আমি মূলত দুটো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে যেটি আমার বাচ্চার জন্য কম ক্ষতিকর, সেটাই বেছে নিয়েছি।’
৮০-র দশকে সিঙ্গেল মাদারের সন্তান হিসেবে বড় হওয়া ইমরান খুব ভালো করেই জানেন, একটা ভাঙা পরিবারের সন্তানকে সমাজ কীভাবে জাজ করে। তাই লোকলজ্জার চেয়ে মেয়ের মানসিক শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ দেওয়াটাই তার কাছে বেশি জরুরি ছিল।
অভিনয় ছেড়ে দেওয়া এবং ডিভোর্সের পর জীবনের যে অন্ধকার ও একাকী সময়ের মধ্য দিয়ে ইমরান গিয়েছেন, সেখানে তার একমাত্র বেঁচে থাকার রসদ ও আশার আলো ছিল তার ছোট্ট মেয়ে ইমারা। ইমরান আবেগঘন কণ্ঠে জানালেন, ‘আমার জীবনে ইমারা যে কতটা অর্থ আর ভালোবাসা এনে দিয়েছে, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ ডিকশনারিতে নেই। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও রুদ্ধশ্বাস সময়ে এই মেয়েটিই ছিল আমার ‘লাইটহাউস’। যখনই আমি দিক হারিয়ে ফেলতাম, ইমারাকে দেখেই নিজের জীবনের কম্পাসটা সোজা করে নিতাম।’
২০১৯ সালে অবন্তিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ইমরান বর্তমানে লেখা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও, মেয়ে ইমারার জন্য তিনি এবং অবন্তিকা— দুজনেই তাদের সেরাটা দিচ্ছেন। ক্যারিয়ারের চকমকি আলো ছেড়ে জীবনের এই বাস্তব দর্শন ও মেয়ের প্রতি ইমরানের এই নিখাদ ভালোবাসা ভক্তদের মনে তার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।