চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলা ২০ দিনের মাথায় আসামি মনিরের বিচার শুরু
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশু ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ জুন বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এটিই প্রথম কোনো ধর্ষণ মামলা যেটির চার্জশিট ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় দেওয়া হয়েছে এবং ২০ দিনের মাথায় বিচার শুরু হলো। ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ উল আলম চৌধুরী যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, গত ২১ মে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় একটি গুদাম ঘরে নিয়ে ৫ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদি হাসানের ছেলে মনির হোসেন (৩০)। স্থানীয় লোকজন ওই সময় তাকে আটক করে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাকে হেফাজতে নিতে চাইলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ঘেরাও করে রাখে। তাকে তাদের হাতে তুলে দিতে দাবি জানায়। হাজার হাজার লোকের কাছে বেশ কয়েকজন পুলিশ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করে পুলিশের পোশাক পরিয়ে মনির হোসেনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় স্থানীয় জনতা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের তুলাতুলি এলাকা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় ধর্ষিতা শিশুর পিতা মেহেদী হাসান বাদি হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট ৫৮ জনসহ ৪০০-৫০০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসআই তানভির আহমেদ ধর্ষণ মামলা তদন্ত করে দুই সপ্তাহের মাথায় গত ৪ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এর আগে আসামি মনির হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার এজাহারে ১৩ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আদালত মঙ্গলবার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে ১৪ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। একদিনেই ১০ জনকে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এ মামলার বিচার কাজ শেষ হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষ।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, দ্রুততার সঙ্গে চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষ করেছেন তারা। অন্য মামলাটিরও তদন্ত চলছে।