ইটনায় ১ ব্যক্তির মৃত্যুতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রামে পুলিশ মোতায়েন
প্রতিকি ছবি
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাথারকান্দি গ্রামে উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়টুটি ইউনিয়নের পাথারকান্দি গ্রামের উজ্জ্বলের সঙ্গে রফিকুল, আবুল কালাম, খায়রুল ও সারজুলসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এ নিয়ে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি একটি ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
গত ৩ জুন রাতে উজ্জ্বলের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
উজ্জ্বলের স্বজনদের দাবি, ওই সময় মারধরের শিকার হয়ে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। আতঙ্কে প্রতিপক্ষের অনেক পুরুষ সদস্য বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে উজ্জ্বলের স্বজনরা হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই রহমত উল্লাহ ও ছয়েব আলীর দাবি, মারধরের কারণেই উজ্জ্বলের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে তার মৃত্যু হয়। তারা বলেন, প্রতিপক্ষের বাড়িতে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
অন্যদিকে ঝরনা আক্তার ও কুলসুমা বেগমসহ কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকটি গরু ও মূল্যবান মালামাল নৌকায় করে নিয়ে গেছে।
উজ্জ্বলের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক খান মিলকী বলেন, পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেব খাঁন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।