কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান চালিকাশক্তি ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (কউক)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সরকার তাকে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় এই সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থার শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেছে। নবনিযুক্ত এই চেয়ারম্যান কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কউক-এর চেয়ারম্যান পদে যোগদানের পূর্বে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে থাকা সমস্ত কর্ম-সম্পর্ক বা লিয়াজোঁ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী পরবর্তীতে মূল চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশের অনুলিপি ইতিমধ্যেই অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকতের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ এবং ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) যাত্রা শুরু করে। ২০১৫ সালের ৬ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ পাসের পর ২০১৬ সালের ৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়। একই বছরের ১১ আগস্ট প্রথম চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটি তার পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এই সংস্থায় তিনজন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অংশীজনেরা আশা প্রকাশ করছেন, একজন দক্ষ প্রকৌশলী ও উপকূলীয় এলাকার সন্তান হিসেবে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের হাত ধরে কক্সবাজারের চলমান মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত পরিবেশবান্ধব পর্যটন নগরী গড়ার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও বেগবান হবে।