জার্সি পরে নামাজ পড়া কি জায়েয, ইসলাম কী বলে?

জার্সি পরে নামাজ পড়া কি জায়েয, ইসলাম কী বলে?

ছবিঃ সংগৃহীত।

ঈমান আনার পর ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। এটি জান্নাতের চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। এ ছাড়া ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজও রয়েছে। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, জার্সি পরে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, জার্সি পরিধান করে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে জার্সিতে যদি প্রাণীর ছবি বা মানুষের ছবি স্পষ্টভাবে থাকে, তাহলে নামাজ আদায় হলেও তা মাকরুহ হবে। আর ছবিটি যদি এতটাই অস্পষ্ট হয় যে সহজে বোঝা না যায়, তাহলে মাকরুহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ইসলামি শরিয়তে প্রাণী বা জীবিত সত্তার ছবিযুক্ত পোশাক পরিধানকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বৃক্ষ, পাহাড়, নদী, ঝরনা বা অন্যান্য প্রাণহীন বস্তুর ছবি থাকলে তা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ : ৪৪৮৯)

 

এ ছাড়া অনেক প্রচলিত খেলাধুলার সঙ্গে অতিরিক্ত আসক্তি, সময় ও অর্থের অপচয় কিংবা শরিয়তবিরোধী কিছু বিষয় জড়িয়ে যেতে পারে বলে ইসলামি পণ্ডিতরা সতর্ক করেছেন। তাই মুসলমানদের উচিত এমন সব বিষয় থেকে বিরত থাকা, যা ইবাদত-বন্দেগিতে বাধা সৃষ্টি করে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ

অর্থ : ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছদ গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

সুতরাং জার্সি পরে নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে পোশাকে যদি জীবিত প্রাণীর স্পষ্ট ছবি থাকে, তাহলে তা মাকরুহ হিসেবে গণ্য হতে পারে। নামাজের মর্যাদা ও আদব রক্ষার জন্য পরিচ্ছন্ন, শালীন এবং ছবিমুক্ত পোশাক পরিধান করাই উত্তম।