মেসির ১৬ ফুটের ভাস্কর্য আর নেইমারের প্রতিকৃতি ঘিরে গোপালগঞ্জে উচ্ছ্বাস
সংগৃহীত ছবি
শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। যার ছোঁয়া এখন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এখানে এক ব্যতিক্রমী উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্যোগে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য। ব্রাজিল সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই। তাদের প্রিয় ফুটবল তারকা নেইমারের প্রতিকৃতি স্থাপনের পাশাপাশি বিশাল পতাকা টানিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপ ঘিরে বহুগ্রাম এখন যেন উৎসবের গ্রাম। প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল মন্ডল ও সজীব বিশ্বাসের উদ্যোগ ওই গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকরা গত ২২ মে থেকে ছন, বাঁশ, কাঠ ও মাটি দিয়ে ভাস্কর্য তৈরির কাজ শুরু করে। এখন সেটি রং ও তুলির টানে ফুঁটিয়ে তোলা হচ্ছে। ১৭ জুন আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগেই এটির কাজ শেষ হবে। প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভাস্কর্যটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
ওই গ্রামের ব্রাজিল সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই। তারা ইতোমধ্যে তৈরি করেছেন নেইমার জুনিয়রের বিশাল প্রতিকৃতি। একই সঙ্গে বহুগ্রাম বাজারজুড়ে টানানো হয়েছে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বিশাল ব্রাজিলের পতাকা, যা পুরো এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলের উম্মাদনা সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে বহুগ্রাম এখন পরিণত হয়েছে বর্ণিল ফুটবল উৎসবে, যেখানে মিশে গেছে সমর্থকদের আবেগ আর উচ্ছ্বাস। শুধু আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এলাকায় টানানো হয়েছে জার্মানি ও স্পেনের পতাকা। এতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক বহুজাতিক ফুটবল সমর্থনের রঙিন মঞ্চে ।
আয়োজনের পরিধি শুধু ভাস্কর্য বা পতাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ওই গ্রামের নিহার মুখার্জী বলেন, এ উদ্যোগ পুরো এলাকায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে তরুণদের অংশগ্রহণ, দলীয় সমর্থন এবং মিলনমেলার পরিবেশ বহুগ্রামকে একটি উৎসবমুখর কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
আয়োজক সজিব বিশ্বাস বলেন, আমাদের গ্রাম ইতিমধ্যে মেসির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই তার জন্য এমন কিছু করেছি, যেটা বাংলাদেশের কেউ করেনি। তাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতেই এ ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। এতে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আমরা চাই, মেসির ভাস্কর্যের সামনে বসেই বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করবো। দর্শকদের জন্য আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার বলেন, ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে আমরা ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা টানিয়েছি। এটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এটি দেখছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একসাথে বসে খেলা দেখবো। এখানে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কোন বিশৃংখলা হবে না।
ফুটবল প্রেমি কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ফুটবল আমাদের আবেগের জায়গা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা নেইমারের প্রতিকৃতি ও বিশাল পতাকার আয়োজন করেছি। স্থানীয়রা আমাদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। চায়ের দোকানী বিন্দু বাড়ৈ বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এখানে চায়ের আড্ডা বসছে। দোকানে ভাল বেচা-বিক্রি হচ্ছে। এ বছরের ফুটবল উম্মাদনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।