২৫ বছর পর এক ফ্রেমে দেখা যাবে আমির খান ও সানি দেওল

২৫ বছর পর এক ফ্রেমে দেখা যাবে আমির খান ও সানি দেওল

ছবিঃ সংগৃহীত।

বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু অধ্যায় থাকে যা যুগের পর যুগ ধরে রূপকথার মতো শোনায়। ঠিক তেমনই এক অধ্যায় ২০০১ সালের জুন মাস। একদিকে আমির খানের ‘লগান’-এর ব্যাট-বলের লড়াই, অন্যদিকে সানি দেওলের ‘গাদ্দার’-এর হ্যান্ডপাম্প উপড়ে ফেলার গর্জন। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সেই ‘বক্স অফিস ক্লাশ’-এর আজ ২৫ বছর পূর্ণ হলো ২০২৬ সালের এই জুন মাসে। আর এই সিলভার জুবিলির লগ্নে দাঁড়িয়ে বলিউড ভক্তদের জন্য আসতে চলেছে নতুন বড় ধামাকা। যে দুই তারকা এক সময় বক্স অফিস কাঁপিয়ে মুখোমুখি লড়াই করেছিলেন, তারাই এবার এক হয়ে রূপালী পর্দা কাঁপাতে আসছেন আগামী ১৪ আগস্ট, তাদের নতুন ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ নিয়ে।

আজকের মাল্টিপ্লেক্স বা ওটিটির যুগে বসে সেই ২৫ বছর আগের উন্মাদনা কল্পনা করাও কঠিন। আমির খান নিজেই স্বীকার করেছেন, ‘লগান যদি অস্কারের মঞ্চ কাঁপিয়ে থাকে, তবে গাদ্দার ছিল এক মহাপ্রলয় বা সুনামি।’ সাধারণ মানুষ দলে দলে ট্রাক ভাড়া করে, বাসের ছাদে চড়ে সিনেমা হলে এসেছিলেন তারা সিংয়ের দেশপ্রেম দেখতে। আমির খান ও সানি দেওলের এই লড়াইয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল— এখানে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি ছিল না। আমির নিজেই ছবির পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকরকে ‘গাদ্দার’ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যকে মন থেকে উদযাপন করেছিলেন।

বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, আমির ও সানির এই রসায়ন আজ থেকে শুরু হয়নি। ১৯৯০ সালেও আমিরের ‘দিল’ এবং সানির ‘ঘায়েল’ একই দিনে মুক্তি পেয়ে দুটিই অল-টাইম ব্লকবাস্টার হয়েছিল। ১৯৯৬ সালেও ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ ও ‘ঘাতক’ একই সময়ে এসে বক্স অফিসে রাজত্ব করেছিল। ইতিহাস সাক্ষী, এই দুই মহাতারকা যখনই মুখোমুখি হয়েছেন, ভারতীয় সিনেমার ব্যবসার গ্রাফ তখনই আকাশ ছুঁয়েছে।

রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ছবিটি ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। মজার ব্যাপার হলো, সানি দেওলের ‘গাদ্দার’ এবং আমির খানের ‘লগান’ দুটি ছবিই ছিল ভারতের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের পটভূমিতে তৈরি। এবার এই দুই তারকা যখন দেশভাগের নির্মম সত্য নিয়ে তৈরি একটি ছবিতে প্রধান চরিত্রে একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করবেন, তখন থিয়েটারে যে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটবে, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিহাসে খুব কম লড়াইয়ের গল্প থাকে যেখানে দিনশেষে কোনো পরাজিত সৈনিক থাকে না। লগান বনাম গাদ্দার ছিল এমন এক লড়াই, যা বলিউডকে শুধু ব্যবসাই দেয়নি, দিয়েছে চিরকালের দুটো সেরা সম্পদ। আর এবার এই দুই কিংবদন্তির এক হওয়া প্রমাণ করে যে, সিনেমার খাতিরে সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক সময় যৌথ উদযাপনে রূপ নিতে পারে।