জিদানপুত্রের ভুলের খেসারত, দ্বিতীয় গোল মেসির
সংগৃহীত
আক্রমণের শুরুটা করেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। নিজেদের অর্ধ থেকে থেকে অনেক দূরে এগিয়ে এসে তিনি আলজেরিয়ার অংশে থাকা সতীর্থকে বল বাড়ান। কয়েকজনের পা ঘুরে বক্সের কিছুটা সামনে থাকা অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার শট নিয়েছেন, আলজেরিয়ার জিদানপুত্র লুকা জিদান সেই গতিময় বল থামাতে পারেননি। উল্টো তার কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় সেটি জালে জড়ান লিওনেল মেসি।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে গ্যালারি মাতানো মুহূর্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'আবারও লিওনেল মেসি! এবং আর্জেন্টিনার সেই জাদুকরী ফুটবলার আজ দ্বিতীয়বারের মতো বল জালে জড়ালেন!' ঠিক যেন 'আবারও মেসি মোমেন্ট!' মেসি নিজেই চমৎকার এক আক্রমণ শেষ করে তার দলের হয়ে এই দুর্দান্ত গোলটি করলেন। ধারাভাষ্যকারেরা আরও যোগ করেন, 'আর্জেন্টিনার জন্য গোল! লিওনেল মেসি আক্রমণ শেষ করে তার দলের হয়ে গোল করলেন।'
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা আলবিসেলেস্তেদের সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই জোর আলোচনা চলছিল। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শুরুর আগেই তাঁর একাদশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেন। তবে ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দলের কৌশল ও আক্রমণের ধার বাড়াতে স্কালোনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনার কোচ প্রথম পরিবর্তনটি আনেন। তিনি গঞ্জালো মন্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামান নাহুয়েল মলিনাকে। এরপর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা দলে আরও দুটি বড় পরিবর্তন দেখা যায়। স্কালোনি স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজকে। একই সময়ে তিনি থিয়াগো আলমাদার জায়গায় খেলতে নামান নিকো গঞ্জালেজকে।
নিকো গঞ্জালেজ এবং হুলিয়ান আলভারেজকে মাঠে নামানোর এই সিদ্ধান্ত পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে এই ম্যাচ থেকে আর্জেন্টিনা আসলে কী চাচ্ছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মাত্র দুটি অন-টার্গেট শটের মধ্যে আটকে রেখে আলজেরিয়া অবশ্য প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু পর্যন্ত বেশ ভালোই পারফর্ম করেছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার এই আক্রমণাত্মক চালের সামনে তারা আর কতক্ষণ চাপ সামলাতে পারত, সেটাই ছিল দেখার বিষয়।
খেলোয়াড় বদলের ঠিক পরপরই মাঠে দারুণ এক উত্তেজনা তৈরি হয়। মেসি চমৎকার এক পাসে বল বাড়িয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেসের দিকে। মার্তিনেস ডান দিক থেকে ড্রিবলিং করে আলজেরিয়ার বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন। তিনি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করে পোস্টের কাছ থেকে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিদান বাঁ দিকে নিচে ঝুঁকে পড়ে মার্তিনেসের সেই শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ১৭ মিনিটে মেসির করা প্রথম গোলের পর এটিই ছিল ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম অন-টার্গেট শট। তবে মার্তিনেসকে গোলবঞ্চিত করলেও এর ঠিক ৫ মিনিট পরেই লুকা জিদান আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি। ৬০ মিনিটে ঠিকই আলজেরিয়ার জাল খুঁজে নেন লিওনেল মেসি।