সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ আর নেই।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।  
হারুন-অর-রশিদ বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ সময়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই আসনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।  

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে জেলার দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।  

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।  

পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত অঙ্গনে আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মরহুম অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।