হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে : এমপি বকুল
সংগৃহীত ছবি
আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। প্রতিটি হত্যার হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে।
প্রত্যেকটি লাশের জবাব দিতে হবে।’
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুরে স্থানীয় আলাল মুন্সি ও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত তিনজনের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
এমপি বকুল আরো বলেন, ‘একটি পক্ষ প্রতিশোধ নিতে এবং মানুষ হত্যার জন্য এলাকায় এসেছিল। তারা এলাকায় উঠার জন্য আসেনি।
তারা আমাদের মুখে চুনকালি দিতে এসেছিল। আপনারা লাঠিসোটা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হউন। বাইরে থেকে কোনো সন্ত্রাসী আসলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখবেন এবং পুলিশের হাতে তোলে দেবেন। রায়পুরার চরাঞ্চলের ৮টি ইউনিয়নে কাউকে অন্যায় প্রশ্রয় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।
’
জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। গত ১৬ জুন ভোরে তারা স্পিডবোট যোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে। এসময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিন সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ওই ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিন সমর্থক অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক প্রবাসফেরত কাউছার মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার এক দিন পর (১৭ জুন) দুপুরে নরসিংদীর মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর (১৮ জুন) সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই প্রবাসী কাউছার, লতিফসহ তিনজন নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন বুলবুল মিয়া।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, ‘হত্যায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলমান আছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত অনিকের মা বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। অন্য দুটি হত্যার ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিখোঁজ বুলবুলের সন্ধানে তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছে। পুলিশ তার সন্ধানে কাজ করছে। বর্তমানে উপজেলার নিলক্ষা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।