‘এখনও কাঁপছি, সারাজীবন মনে রাখব’— মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন করা সাংবাদিক

‘এখনও কাঁপছি, সারাজীবন মনে রাখব’— মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন করা সাংবাদিক

সংগৃহীত ছবি

নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমও প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎই পাল্টা আক্রমণে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। গোলের জন্য শট করলেন লিওনেল মেসি। ফিরিয়ে দিলেন গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বলে আর ভুল করলেন না। বাম পায়ের শটে জাল কাঁপালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। 

ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৮তম গোল করে মেসি ছুটলেন উদযাপনে। তখনই গোলবারের পেছনে দেখা পেলেন এক সাংবাদিকের। সতীর্থরা ঘিরে ধরার আগে সেই সাংবাদিকের সঙ্গে হাত মিলিয়েই উদযাপন করলেন মেসি।

সেই ছবি এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মেসির সঙ্গে উদযাপন করা ওই সাংবাদিককে সৌভাগ্যবান বলছেন মেসির ভক্ত-সমর্থকরা। ওই সাংবাদিক নিজেও মানছেন, তার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি এটি।

মেসির সঙ্গে গোল উদযাপন করা ওই সাংবাদিকের নাম হোয়াকিন ব্রুনো। যিনি কাজ করেন আর্জেন্টিনার ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও ব্রডকাস্ট চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের হয়ে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের পর তার সঙ্গেই উদযাপন করেন মেসি।  

পরে টিওয়াইসি স্পোর্টসে লেখা ছোট্ট কলামে নিজের অনুভূতি জানান ব্রুনো। সেই মুহূর্তের অনুভূতি বলতে গিয়ে সাংবাদিক বলেন- ‘আমি এখনও কাঁপছি, যেন ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছি না। এটি সত্যিই কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ ছিল, আর আমার স্নায়ুগুলো তখন টানটান উত্তেজনায় ছিল। আমি প্রচণ্ড রকমের নার্ভাস ছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি গোলপোস্টের পেছনে একা ছিলাম, কারণ গ্যাস্টন (এদুল) ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য মিক্সড জোনে চলে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এটি ছিল ৯৫তম মিনিট, যখন সেই নাটকীয় মুহূর্তটি ঘটল। প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজ শট নিয়েছিলেন এবং শ্লাগার সেটি ঠেকিয়ে দেন। মেসি ফিরতি বলটি পেয়েছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগ তার শট আটকে দেয়। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ‘দ্য ফ্লি’ আর ভুল করেননি। আমি মাত্র কয়েক মিটার দূরেই ছিলাম এবং অন্য যেকোনো ভক্তের মতো আমি পাগলের মতো চিৎকার করছিলাম।’ 

সাংবাদিক বলেন, ‘তারপর দেখলাম লিও আমার দিকে আসছে। আমি তখনও চিৎকার করছিলাম আর সে আমার দিকে তাকাচ্ছিল। সে এগিয়ে এসে আমাকে হাই ফাইভ দিল। একজন আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্ত এবং মেসির একনিষ্ঠ অনুরাগী হিসেবে আমি এখন যা অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি এই মুহূর্তটি এবং এই ছবিটি সারাজীবনের জন্য আমার সঙ্গে বহন করব: পাঁচ মিনিট পার হতে না হতেই আমার ফোনটি সেই ছবি পাঠানো বার্তায় ভরে গিয়েছিল।’