আজ পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ফাইল ছবি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সফরে আজ ইসলামাবাদে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মধ্যস্থতার কৃতজ্ঞতা ও পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এ সফরকে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার একদিন আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
এই সফরে পেজেশকিয়ান সুইজারল্যান্ড আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ সুইজারল্যান্ড আলোচনা এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সফরের সময়কে আকস্মিক মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক অধ্যাপক রেজা খানজাদেহ বলেছেন, পেজেশকিয়ান তার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চুক্তিটি স্বাক্ষর করার পরপরই ইসলামাবাদে এসে আসছেন। এটা ইঙ্গিত দেয়, ভঙ্গুর চুক্তিটিকে তিনি রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপান্তরিত করতে চান–দেশে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, অঞ্চলজুড়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে। পাকিস্তানের চেয়ে এই সফরের প্রয়োজন তারই বেশি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের এটি দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পেজেশকিয়ান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে পাকিস্তানকেই বেছে নেন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে যাওয়ার আগে পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোর ভ্রমণ করেন।
ওই সময় বারোটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই হয়েছিল। বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সূত্র : আলজাজিরা