ইবিতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

ইবিতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করেছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। কমিটি গঠনের পরদিনই একাংশের সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তদন্ত কমিটি।

আদেশ সূত্রে জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) এ. জেড. এম. আছাফদ্দৌলাকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে এ পর্যন্ত কতজন এবং কী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপাচার্য এই কমিটি গঠন করেন। তবে বিষয়টি গোপনীয় উল্লেখ করে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমতাজ হোসেন বলেন, “নিয়োগপ্রাপ্তদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিনুর রহমান বলেন, “তিনি যোগদানের পর লক্ষ্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বেশ কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত ঈদুল আজহার আগে এ খাতে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়েছে। অথচ এ অর্থের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বা সরকারের কোনো অনুমোদন বা সম্পৃক্ততা নেই।”

তিনি আরো বলেন, “এই খাতে বছরে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। কোন প্রেক্ষিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং এর যৌক্তিকতা কতটুকু তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”