দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে ভাইকিংদের অসহায় আত্মসমর্পণ
সংগৃহীত ছবি
প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ একপ্রকার নিজেদের করে নিয়েছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। এরপর ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে নরওয়ের কফিনে স্রেফ শেষ পেরেকটা ঠুকেছেন তারই ক্লাব সতীর্থ দিজিরে দুয়ে।
হালান্ডসহ একাদশে ১০ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা ভাইকিংসদের ৪-১ গোলে আত্মসমর্পণ করিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাও নিশ্চিত করে ফেলল ফ্রান্স।
ম্যাচ শুরুর আগে আবহটা ছিল কিছুটা বিষাদময়। ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে দুই দলের ফুটবলার ও গ্যালারির দর্শকরা এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। তবে রেফারির বাঁশি বাজার পর বোস্টনের মাঠে যে ঝড় উঠল, তাতে মুহূর্তেই স্তব্ধতা রূপ নিল ফুটবলের তুমুল উন্মাদনায়।
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ২৩ সেকেন্ড! কিলিয়ান এমবাপ্পের শট নরওয়ের দূরের পোস্টে লেগে ফিরে না এলে তখনই লিড পেতে পারত ফরাসিরা। চতুর্থ মিনিটে ফ্রান্স মিডফিল্ডার মানু কোনের শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক এগিল সেলভিক। তবে তিন মিনিট পরই আর শেষ রক্ষা হয়নি। ডান প্রান্ত ধরে ঝড়ের গতিতে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে নরওয়ে গোলকিপারকে বোকা বানান দেম্বেলে।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে নরওয়ে। ফ্রেডরিক আর্সনেসের দূরপাল্লার পাস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিলেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন। এর তিন মিনিট পর এমবাপ্পের একক প্রচেষ্টা রুখে দেন সেলভিক। তবে ২০ মিনিটে আর ফরাসিদের রুখতে পারেনি নরওয়ের রক্ষণভাগ। মাঝমাঠ থেকে এমবাপ্পের নিখুঁত থ্রু বল ধরে বক্সের সামান্য দূর থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে ব্যবধান ২-০ করেন দেম্বেলে।
ম্যাচের রোমাঞ্চ থিতু হওয়ার সুযোগই পায়নি। ঠিক পরের মিনিটেই ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে নরওয়ে। বাঁ প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ফরাসি জাল কাঁপান মিডফিল্ডার থেলো আসগার্ড। ২২ মিনিটের মধ্যে দুই দল মিলে ১৫টি শট নেয়, যার ৯টিই ছিল অন-টার্গেট। ম্যাচের এই গনগনে উত্তেজনার মাঝেই আসে নতুন নিয়মের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’।
তবে বিরতিও থামাতে পারেনি দেম্বেলে-ঝড়। ৩২ মিনিটে বোস্টনের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বক্সে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের তিন তিনজন ডিফেন্ডারকে চোখের পলকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। আর এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলা শুরুর পর মিনিটের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন দেম্বেলে (৩২ মিনিট)। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে শীর্ষে আছেন অস্ট্রিয়ার এরিক প্রোবস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় ছিল সেই একই উত্তেজনা। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় নরওয়ে, লারসেনের স্পট-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। এর দুই মিনিট পর এমবাপ্পে একক দৌড়ে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে চলে গেলেও ২৮ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান কিপার সেলভিকের ক্ষীপ্রতার কাছে পরাস্ত হন।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়েছে। ৫৭ মিনিটে এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, আর ৭২ মিনিটে অস্কার ববের নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন মাইনান। তবে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) নরওয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন তরুণ তুর্কি দেজিরে দুয়ে। বাঁ প্রান্তের বাইলাইন থেকে ব্র্যাডলি বারকোলার চোখধাঁধানো ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে নিখুঁত হেডে বল জালের কোণায় পাঠিয়ে দেন তিনি। আর তাতেই ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা।