‘মেসি ছাড়াই’ দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে আর্জেন্টিনা
সংগৃহীত
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচটি লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য কেবলই আনুষ্ঠানিকতার। প্রথম দুই ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়াকে হারিয়ে ইতোমধ্যে গ্রুপ 'জে' থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। যেহেতু এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর পরবর্তী পর্বের ভাগ্য নির্ভর করছে না, তাই আজ একাদশে বিশাল রদবদল এনেছেন আর্জেন্টাইন কোচ।
গ্যালারিতে হয়তো অনেকের চোখ খুঁজছিল ফুটবলের সেই চেনা জাদুকরকে। কিন্তু লিওনেল মেসিকে একাদশে না রেখেই ৯টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি। ডালাসের মাঠে জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই যেন রীতিমতো ছড়ি ঘুরালো আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই আধিপত্যের চূড়ান্ত রূপ দিয়ে লো সেলসো ও লাউতারা মার্টিনেজের গোলে প্রথমার্ধে ২-০ গোলের লিড নেয় স্কালোনির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতে জর্ডান আগ্রাসী প্রেসিং করে আর্জেন্টিনার খেলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বলের দখল বেশিরভাগ সময়ই ছিল আর্জেন্টিনার পায়ে। অষ্টম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে লো সেলসো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর ১৩তম মিনিটে কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি হেড নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। আক্রমণের চাপ অব্যাহত রাখার ফল মেলে ১৯তম মিনিটে। বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন লো সেলসো। যদিও এই ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক ছিল, কারণ রিপ্লেতে দেখা যায় জর্ডানের ডিফেন্ডার আগে বলে স্পর্শ করেছিলেন।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পাস থেকে লাউতারো মার্টিনেজের শট ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে মার্কোস সেনেসির প্রচেষ্টাও বারে আঘাত করে। ওই সময় সেনেসির মাথায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পা লাগার ঘটনায় ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
৩১তম মিনিটে স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি মার্টিনেজ। নিচু শটে গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। লিওনেল মেসি মাঠে না থাকলেও পেনাল্টির দায়িত্ব নিয়ে সফল হন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। জর্ডান মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। তাতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।