আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হবো না: ইতালির প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি।
একসময় ইউরোপের নেতাদের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল।ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাথে সম্পর্কটা একটু বেশিই ভালো ছিল। দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্পের অভিষেকের সময়ও উপস্থিত ছিলেন মেলোনি। ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিরও প্রশংসা করেছেন খোলা মনে।
কিন্তু ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ন্যাটোর সহায়তা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প।
মেলোনিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। এ মাসের মাঝামাঝি ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ইউরোপিয় নেতা, বিশেষ করে মেলোনির সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল ট্রাম্পের সামনে। কিন্তু যথারীতি ট্রাম্প করেছেন উল্টোটা।
তার এক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইতালির সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গেছে।
সোমবার ইতালির রেতে ৪ চ্যানেলের '১০ মিনিট' অনুষ্ঠানে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সময় জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ’আমি আজ আমেরিকা-বিরোধী নই; আবার গতকালও আমি কারও সামনে নতজানু ছিলাম না। ’
ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দিয়ে মেলোনি বলেন, ’আমি এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরও শক্তিশালী হয় এবং একটি ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা বিশ্বে ইতালি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। আমি এই লক্ষ্যের জন্যই কাজ করেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।
তবে এর পাশাপাশি, দৃঢ় সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং আমি একজন স্পষ্টভাষী মানুষ। ’
জি-৭ সম্মেলনের সময় ইতালির লা ৭ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘মেলোনি আমার সাথে একটা ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি আমার সাথে ছবি তুলতে এতটাই মরিয়া ছিলেন যে আমি হয়তো ছবি তুলতামই না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার মায়া লেগেছিল। ’
ট্রাম্পের এ বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি একে গালগল্প বলে উড়িয়ে দেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার পূর্ব নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন।
উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা না করে ট্রাম্প তাতে ঘি ঢেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আবার মেলোনির ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতির ব্যাপারটি পুনরুল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে মেলোনি তার সাথে ছবি তুলতে ব্যাকুল ছিলেন। ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়ে মেলোনি বলেছিলেন, তার জনপ্রিয়তা ট্রাম্পের সাথে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। ইতালির স্বার্থরক্ষায় অনড় অবস্থানের কারণেই তিনি জনপ্রিয়।