হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

হেয়ার কালার দীর্ঘদিন উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

ফাইল ফটো

পার্লার থেকে হেয়ার কালার করানোর পর চুলের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা আর ঝলমলে রং আমাদের মন ভালো করে দেয়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে কিছুদিন পর।কয়েকবার শ্যাম্পু করার পরই সেই পছন্দের রং ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। অনেক সময় চুলে অবাঞ্ছিত হলদে কিংবা তামাটে ভাবও চলে আসে। শুধু ভালো মানের হেয়ার কালার ব্যবহার করলেই রঙের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়মে চুলের যত্ন নেওয়া।

চলুন, জেনে নিই হেয়ার কালার দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার ৫টি সহজ উপায়।

কালার করার আগে চুল প্রস্তুত করুন
হেয়ার কালার করার আগে চুল পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। চুলে অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি বা কোনো স্টাইলিং প্রোডাক্ট জমে থাকলে রং সমানভাবে বসে না। তাই কালার করার কয়েক দিন আগে একটি ভালো ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন।

পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা থাকলে সামান্য ট্রিম করিয়ে নিন। কারণ শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।

প্রথম ৩ দিন শ্যাম্পু থেকে দূরে থাকুন
হেয়ার কালার করার পর অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা (২-৩ দিন) চুলে শ্যাম্পু না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ের মধ্যে চুলের কিউটিকল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রংকে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করে। কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করলে নতুন রং দ্রুত ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল ধোওয়ার অভ্যাস বদলান
গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে কিউটিকল খুলে যায় এবং রং দ্রুত নষ্ট হয়। তাই চুল ধোওয়ার জন্য সবসময় ঠাণ্ডা বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না। প্রয়োজনে মাঝের দিনগুলোতে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে ‘কালার-সেফ’ ও ‘সালফেট-মুক্ত’ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে রঙের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

রোদ, ক্লোরিন ও হার্ড ওয়াটার থেকে সুরক্ষা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি হেয়ার কালার নষ্ট করে দেয়। তাই কড়া রোদে বাইরে বের হলে স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করুন। লাইনে সরবরাহ করা পানিতে অতিরিক্ত খনিজ থাকলে তা চুলের ক্ষতি করতে পারে, তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সুইমিং পুলের ক্লোরিনযুক্ত পানিতে নামার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে লিভ-ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

নিয়মিত ময়েশ্চার ও টোনিং
কালার করার পর চুলে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার শিয়া বাটার বা কেরাটিনযুক্ত ‘ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক’ ব্যবহার করুন। চুলে হলদে ভাব দূর করতে পার্পল শ্যাম্পু এবং বাদামি চুলের তামাটে ভাব কমাতে ব্লু শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে হেয়ার গ্লস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল সিল হয়ে যায় এবং পার্লারের মতো ঝকঝকে লুক বজায় থাকে।