রোনালদোর খরা কাটানোর ম্যাচে নাটকীয় জয়ে শেষ ১৬-তে পর্তুগাল
সংগৃহীত ছবি
নাটকীয় এক ম্যাচই হয়ে গেল বৈকি! চতুর্থ অফিসিয়াল যখন ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দিয়েছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল খেলাটা বুঝি যোগ করা সময়ে যাচ্ছেই! ক্রোয়েশিয়া আর পর্তুগাল দুই দলই যে ১-১ গোলে সমতায় ছিল!
কিন্তু সেই অতিরিক্ত সময়ে কী থেকে কী হয়ে গেল! পর্তুগাল গোল করে এগিয়ে গেল। এরপর ১০ মিনিট পেরিয়ে ১২ মিনিটে গিয়ে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল। তবে অফসাইডে সে গোল বাতিল হলো শেষমেশ!
এরপরও একটা আক্রমণ করতে দেওয়া হয়েছে দুই দলকে। সেই যোগ করা সময় গিয়ে শেষ হয়েছে প্রায় ১৮ মিনিটে গিয়ে। শেষ বাঁশি বাজতেই পর্তুগিজ শিবিরে উল্লাস, কারণ দলের ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাতে! রোনালদোর দল চলে গেছে শেষ ১৬-তে।
রিয়াল মাদ্রিদে প্রায় ছয় বছর একসঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচ। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে আজ শেষবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। শেষমেশ এই লড়াইয়ে শেষ হাসি পর্তুগালই হাসল, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেছে মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও পর্তুগাল গোলের মুখ খুলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে বক্সের জটলা থেকে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। এরপর ৬১ মিনিটে রোনালদোর একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। তবে কর্নার থেকে রাফা লিয়াওকে ফাউল করার পর পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। সেই স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট গোল।
সমতা ফেরানোর পর দুই দলই আরও বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে। ক্রোয়েশিয়ার দুটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। গনসালো রামোসের একটি শট লেগে ফিরে আসে ক্রসবারে। ৮০ মিনিটের মাথায় রোনালদোকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। এরপর ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন গনসালো রামোস।
শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়াও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। তবে ভিএআর যাচাইয়ে সেই গোলও বাতিল হয় অফসাইডে। শেষ বাঁশি বাজার পর ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় রোনালদোর দল।