আপেল নাকি কলা, কোনটা বেশি উপকারী

আপেল নাকি কলা, কোনটা বেশি উপকারী

ছবিঃ সংগৃহীত।

প্রতিদিন একটি ফল খাওয়ার অভ্যাস সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ফল বাছাইয়ের সময় অনেকেরই প্রশ্ন থাকে যে, প্রতিদিন আপেল খাওয়া ভালো, নাকি কলা?দুটি ফলই পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীরের জন্য উপকারী। তবে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন এবং দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদার ওপর।

তাই একটিকে অন্যটির চেয়ে ভালো বা খারাপ বলার সুযোগ নেই। বরং দুটিরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা।

আপেলের স্বাস্থ্যকর দিক

স্বাস্থ্যকর ফলের তালিকায় আপেল বরাবরই শীর্ষে থাকে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ, বিশেষ করে

পেকটিন, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত আপেল খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি উপকারী। আপেলে ক্যালরি তুলনামূলক কম এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

কলার বিশেষত্ব

কলা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং দ্রুত শক্তি জোগানোর অন্যতম সেরা ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রাকৃতিক শর্করা। এসব উপাদান শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

ব্যায়ামের আগে বা পরে অনেকেই কলা খেতে পরামর্শ দেন, কারণ এটি দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি পটাশিয়াম পেশির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিশু, কিশোর, খেলোয়াড় এবং যাদের দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম বেশি, তাদের জন্য কলা বিশেষভাবে উপকারী।

ওজন কমাতে কোনটি দরকার

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপেল কিছুটা এগিয়ে। কারণ এতে ক্যালরি কম এবং আঁশ বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা লাগে না। অন্যদিকে কলায় প্রাকৃতিক শর্করা বেশি থাকায় এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়। তাই যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তারা কলা বেছে নিতে পারেন।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও রক্তচাপে যে ফল বেশি কার্যকর

দুটি ফলই হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে কাজের ধরন ভিন্ন। আপেলের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কলার উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দুটি ফলই পর্যায়ক্রমে খাওয়া যেতে পারে।

কার জন্য কোনটি বেশি উপযোগী

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে আপেল ও কলা দুটিই খেতে পারেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে দাঁতের সমস্যা থাকলে নরম পাকা কলা খেতে পারেন। আবার শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে কলা একটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়াতে চান, তাদের জন্য আপেল ভালো নির্বাচন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন একই ফল না খেয়ে সপ্তাহজুড়ে আপেল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, কমলালেবু, আম, লিচু কিংবা অন্যান্য মৌসুমি ফল রাখলে শরীর বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পায়।

পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে আপেল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দ্রুত শক্তি, পটাশিয়াম এবং ব্যায়ামের পর শরীরের এনার্জি ফিরিয়ে আনতে কলা বেশ ভালো কাজ করে। তাই সুস্থ থাকতে হলে পরিমিত পরিমাণে দুটি ফলই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।